ফনেটিক ইউনিজয়
পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শত অভিযোগ
জাকারিয়া জাহাঙ্গীর, জামালপুর

অফিসেই আয়েসি জীবনযাবন করছেন জামালপুর সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিআরডিবি) শিরিন আক্তার। সদরের নিবন্ধিত সমবায় সমিতির সদস্যদের পক্ষে পাঁচজন তার বিরুদ্ধে বিআরডিবির ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎসহ স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, বিআরডিবি কর্মকর্তা শিরিন আক্তার গত বছর জামালপুরে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় জড়িয়ে পড়েন। গত ১১ মাসে তিনি কোনো সমবায় সমিতি পরিদর্শনে যাননি। তাছাড়া নিয়মিত অফিসও করেন না। প্রভাব খাটিয়ে তার কার্যালয়ের কক্ষকে আবাসিক কক্ষ বানিয়েছেন। সেখানে খাট পেতে লেপ-তোশক ও চাদর বিছিয়ে অফিস চলাকালে ঘুমান। তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, শিরিন আক্তার তার বেতন বিল বাবদ ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা বেতনের চেকে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে মাত্র ৮৩ হাজার টাকা দেন। অবশিষ্ট ৮৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। শহরের সর্দারপাড়া সমবায় সমিতির সভাপতি চান মিয়া লিখিত অভিযোগে জানান, তার কাছ থেকে প্রথমে ৫০ হাজার ও পরে ৭০ হাজার টাকাসহ মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দিয়ে পাঁচ-সাতদিন হাজত খাটিয়েছেন। এ রকম আরও অসংখ্য অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
সমবায় সমিতির বেশির ভাগ সদস্য হতদরিদ্র। অনেকেই ৫-৭ হাজার টাকা ক্ষুদ্র ঋণ নিয়েছেন। এসব ঋণের টাকা উত্তোলন করতে কোনো নোটিস প্রদান না করে তিনি ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দিয়ে বিভিন্নজনকে পাঁচ-সাতদিন করে কারাভোগ করিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শিরিন আক্তার  অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি অসুস্থ। তাই যখন শরীর খারাপ লাগে, তখন একটু রেস্ট নিই। এদিকে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা একেএম আশরাফুল ইসলাম তদন্ত প্রসঙ্গে বলেন, শিরিন আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী পাঁচজনের কাছ থেকেই মৌখিক ও লিখিতভাবে সাক্ষাৎকার নিয়েছি। অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর কথা শুনেছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই এ প্রসঙ্গে কিছু বলতে পারছি না।

Disconnect