ফনেটিক ইউনিজয়
দুষ্প্রাপ্য ফুলের শহর এখন বর্ণহীন
তাপস কুমার, নাটোর

চলনবিলের শস্যরাজি, রানী ভবানীর রাজত্ব, বনলতা সেনের কবিতার শব্দ, কাঁচাগোল্লার স্বাদেই শুধু নাটোরের পরিচিতি নয়। একসময় নাটোরের পরিচিতি ছিল দুষ্প্রাপ্য ফুলের শহর হিসেবেও। নাটোরের শৌখিন রাজন্যরা তাদের রাজবাড়ি চত্বরকে সাজাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়ে আসেন অসংখ্য ফুল গাছ। গড়ে তোলেন পুষ্প রাজত্ব। নাটোরের রানী ভবানী রাজবাড়ি আর উত্তরা গণভবনে এখনও শোভাবর্ধন করছে নাগালিঙ্গম, ম্যাগনোলিয়া, হৈমন্তি, সুরভিকা, এগপ্লান্ট, কর্পূর, পারিজাতের মতো বিলুপ্তপ্রায় ফুলের গাছ। রাজাদের দেখাদেখি প্রজারাও ফুল চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল।
গ্রীষ্মের প্রচ- খরতাপে কৃষ্ণচূড়ার রঙ হারিয়ে নাটোর শহর যেন হয়ে পড়েছে বর্ণহীন। অথচ এক দশক ধরে রাস্তার দুই ধারে শত শত কৃষ্ণচূড়া গাছে ফুলের সমারোহ রঙ ছড়িয়ে শহরকে করে তুলত বর্ণময়। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড খরতাপে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের পাশাপাশি এসব গাছ দিয়ে আসছিল ক্লান্ত দেহে ছায়া আর মনে প্রশান্তির পরশ।
শহরের মূল সড়ক প্রশস্তকরণ শুরু হলে প্রায় সব ফুলের গাছই কাটা পড়ে। এক দশক ধরে কৃষ্ণচূড়ার রঙ ছড়ানো শহর হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নাটোর এখন বিবর্ণ। নাটোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি আর গীতি সিনেমা হলের সামনে বেঁচে যাওয়া দুটি কৃষ্ণচূড়া গাছ এখনও রঙ ছড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পাঁচ কিলোমিটার সড়কের অন্য কোথাও কৃষ্ণচূড়া গাছ নেই, নেই রঙের বর্ণচ্ছটা। নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন বলেন, শহরে নির্মিতব্য রাস্তার মাঝে চার ফুট প্রশস্ত মিডিয়ানের মধ্যে ফুলের গাছ লাগিয়ে শহরকে পুষ্পিত করার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এছাড়া কিছু ফুলের চারা তৈরি করা হয়েছে, যা শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পরিকল্পিতভাবে রোপণ করা হবে।

Disconnect