ফনেটিক ইউনিজয়
চরবাসীদের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার
আশিক বিন রহিম, চাঁদপুর

পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী বিধৌত অপূর্ব সুন্দর জেলা চাঁদপুর। এ তিন নদী রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন জেলার সাথে এ জেলার যোগাযোগ মাধ্যমকে সহজ করে দিয়েছে। তবে পদ্ম-মেঘনা দুটি নদীর পশ্চিমে বসবাসরত চরবাসী যাতায়াত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যার মধ্যে আছে। চাঁদপুর সদর, মতলব উত্তর এবং হাইমচর উপজেলার পশ্চিমে পদ্মা ও মেঘনার অবস্থান। এ দুটো নদীকে ঘিরে পশ্চিম পাড়ে রয়েছে ছোট-বড় প্রায় ৪০টি চরাঞ্চল।
এসব চরাঞ্চলে প্রায় দেড়-দুই লাখ লোকের বসবাস। প্রায় প্রতিটি চরেই স্কুল, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন হাটবাজার গড়ে উঠেছে। সেখানকার ৯০ ভাগ মানুষ নদীতে মাছ ধরা ও কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। চরবাসীকে বিভিন্ন কাজে আসতে হয় জেলা শহরে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুরের হাজার হাজার মানুষ চাঁদপুর শহরে আসা-যাওয়া করে। দীর্ঘকাল থেকেই এ এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র বাহন ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকা (ট্রলার)। উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এসব এলাকার মানুষ ছোট্ট এ নৌযানে যাতায়াত করছে। এতে সামান্য ঝড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রলারে ১০০-১৫০ জন পর্যন্ত নারী-পুরুষ ও শিশুযাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা-মেঘনার ১০-১৫ মাইল নদী পাড়ি দিচ্ছে। এছাড়া ট্রলারগুলোয় একই সাথে যাত্রীদের পাশাপাশি হাটবাজারের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী ওঠানো হচ্ছে। ফলে সামান্য ঝড় অথবা ঢেউয়ে প্রায়ই ট্রলারগুলো ভারসাম্যহীন হয়ে ডুবে যাচ্ছে। এতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে অহরহ।
স্থানীয় রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন ট্রলার। এতে ঝুঁকি থাকলেও আমাদের কিছু করার নেই। আমরা বারবারই কর্তৃপক্ষের কাছে উন্নত নৌযানের দাবি করে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।

Disconnect