ফনেটিক ইউনিজয়
ঐতিহ্য সংরক্ষণে বৃহৎ রেল কারখানার মিউজিয়াম নেই
জিকরুল হক, উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি

দেশের বৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বয়স প্রায় ১৫০ বছর। রাষ্ট্রের এ প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে ইতিহাস ও অতীত ঐতিহ্য। অথচ এটির ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মকে জানাতে আজও গড়ে তোলা হয়নি কোনো মিউজিয়াম। এজন্য সরকারের পরিকল্পনার অভাবকেই দুষছেন বিশিষ্টজনরা। সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আসাম-বেঙ্গল রেলপথকে ঘিরে ১৮৬২ সালে এ জনপদে যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন চালু হয়। যাত্রীবাহী কোচ ও মালবাহী ওয়াগন মেরামতের জন্য সৈয়দপুরে ১৮৭০ সালে রেলওয়ে কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলেও ২৭টি উপকারখানায় (সপ) ৭ হাজার ৫০০ ধরনের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি করা হতো। কাজ করতেন ১৬ হাজার শ্রমিক কর্মচারী। দেশ স্বাধীনের পরও প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কর্মচারীর পদচারণায় এ কারখানা মুখর থাকত। বর্তমানে মঞ্জুরি পদের সংখ্যা তিন হাজার হলেও কর্মরত রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ১০০ জন। অনেক উপকারখানা এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ১ হাজার ২০০ ধরনের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি করা হচ্ছে।
বেচাকেনার পরও দুর্ভাগ্যবশত শতবছর আগের তৈরি যেসব অকেজো মেশিনারিজ রয়েছে, তা দিয়েই রেলওয়ে কারখানার অভ্যন্তরে মিউজিয়াম গড়ে তোলা যেতে পারে, যা নতুন প্রজন্ম অনায়াসে অবলোকন করতে পারবে। এতে রেলওয়ের আয়ও বাড়বে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা জানান, বাংলাদেশের (রেলপথ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের) ১০ বছর পরে জাপানে রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। বর্তমানে জাপানের রেলওয়েকে অত্যাধুনিক করা হয়েছে। সে দেশে এখন বুলেট ট্রেন চলছে। আমরা মান্ধাতার আমলেই পড়ে আছি। তিনি আরও জানান, জাপান সরকার রেলওয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সেই সময়কার যন্ত্রাংশ তৈরির কাজে ব্যবহৃত মেশিনারিজ দিয়ে মিউজিয়াম গড়ে তুলেছে। সেখানকার নতুন প্রজন্ম প্রবেশ ফি দিয়ে তা দেখছে। আমাদের দেশেও  কর্তৃপক্ষ তেমন উদ্যোগ নিয়ে রেলওয়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে মিউজিয়াম গড়ে তুলতে পারেন।

Disconnect