ফনেটিক ইউনিজয়
পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রোহিঙ্গা
সুজাউদ্দিন রুবেল, কক্সবাজার

বর্ষা যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উদ্বেগ বাড়ছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে। ফলে পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে দুই লাখ রোহিঙ্গা। এখন নতুন ও পুরনো মিলে ২০টি ব্লকে বসবাস করছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। যাদের বসবাসের জন্য পাহাড় কেটেই তৈরি করা হয়েছে ঘর।
পাহাড় ধসের ঝুঁকির সঠিক তথ্য বের করতে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা করেন আমেরিকার বিখ্যাত ভূতত্ত্ববিদ ম্যারিয়া তাসভা। তার গবেষণায় উঠে এসেছে, দুই লাখ রোহিঙ্গা পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকলেও মূলত চরম বা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ৫০ হাজার রোহিঙ্গা। যাদের যেকোনো সময় প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাই সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গাদের বর্ষা মৌসুমের আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার সুপারিশ করা হয়।
এ বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, পাহাড় ধসের প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রোহিঙ্গাদের রক্ষা করার কাজ শুরু হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গাদের সরিয়ে সম্প্রসারিত কুতুপালং ক্যাম্পের পশ্চিম পাশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরইে মধ্যে ২০ হাজার রোহিঙ্গাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
কুতুপালং মধুরছড়া রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আবুল ফজল বলেন, বিভিন্ন সংস্থার লোকজন তাদের বর্ষায় পাহাড় ধস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানাচ্ছে। পাহাড় ধস হলে তারা কোথায় যাবে। দুর্যোগ থেকে মুক্তির কোনো পদ্ধতি জানা নেই তাদের।
রোহিঙ্গা শিবিরের সার্বিক বিষয়গুলো সমন্বয় করে যাচ্ছে ইন্টারসেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি)। এ সংস্থার কমিউনিকেশন অফিসার নায়না বোস জানান, বর্ষা মৌসুমে যাতে কোনো অবস্থায় ভূমিধস বা বন্যায় প্রাণহানি না ঘটে, সেজন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এখন আগামী বর্ষা মোকাবেলা করাই একমাত্র চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Disconnect