ফনেটিক ইউনিজয়
সমস্যায় জর্জরিত রাবি বোটানিক্যাল গার্ডেন
মানিক রাইহান, রাবি (রাজশাহী)

পরিচর্যাহীনতার কারণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ বিলুপ্তির পথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বোটানিক্যাল গার্ডেন। জানা যায়, গাছের ওপর গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১১তম বছরে প্রায় ১৬ একর জমির ওপর তৎকালীন উদ্ভিদ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলী ইউনুসের হাত ধরে ১০৫ প্রজাতির গাছ নিয়ে এ গার্ডেনের যাত্রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাগানটির প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই দেখা যায় রাস্তার মধ্যে ঘাস জন্মে গেছে। মূল গার্ডেনের ভেতরে রাস্তাগুলো মাটির হওয়ায় বৃষ্টি এলেই যাতায়াতের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। ভেতরে যে গ্রিনহাউজ রয়েছে তার অবস্থাও করুণ। ফুল-ফলের গাছগুলো প্রায় মৃত অবস্থায় রয়েছে। এতে গবেষণার প্রয়োজনে বাগানটিতে প্রবেশে ভয় পাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা।
দীর্ঘদিন থেকে এমন সমস্য জর্জরিত থাকলেও সংস্কারের কোনো ধরনের পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে না কর্তৃপক্ষের। অযত্ন-অবহেলার কারণে সৌন্দর্য হারিয়ে জঙ্গল অভয়ারণ্যতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এদিকে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা, অফিস রুম না থাকা, অপর্যাপ্ত প্রাচীর দেয়াল, জনবলের সংকট, বিদুৎ ব্যবস্থা নেই নানান সমস্যার কথা শুনাচ্ছিলেন গার্ডেনের দায়িত্বরত মালি শফিকুল ইসলাম। অন্যদিকে পর্যাপ্ত প্রাচীর বেষ্টিত না থাকার কারণে পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষদের অবাধ বিচরণ রয়েছে। এতে গাছের ফলমূল থেকে শুরু করে বিভিন্ন উন্নতমানের ফুলের গাছ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। গার্ডেনটি পরিচালনা করতে কমপক্ষে ৩০ জনের অধিক জনবলের প্রয়োজন সেখানে মাত্র চারজন কর্মচারী দিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বাগানটি।
উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর নুরুল আমিন বলেন, ‘বোটানিক্যাল গার্ডেনটি শুধু উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সম্পদ নয়, এটা বিশ্ববিদ্যালয়েরর সম্পদ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়া গেলে আমরা উন্নয়নের কাজ করতে পারব।’

Disconnect