ফনেটিক ইউনিজয়
মুরগি পালনে স্বাবলম্বী রওশনারা
সুমন হোসেন, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ)

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলা গ্রামের রওশনারার নিজের গড়ে তোলা খামারে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে। নিজেই সবকিছু দেখভাল করেন। নিজের জমানো ও ব্যাংকঋণের টাকায় মুরগির খামার শুরু করেন ইউপি মহিলা সদস্য রওশনারা ও তার স¦ামীসহ সন্তানদের সহযোগিতায়। প্রথমে কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। পদে পদে ছিল লোকসানের ঝুঁকি। তবে পরিশ্রম আর মনোবলের ওপর ভর করে সব পাল্টে দেন তিনি। পাঁচ-ছয় বছরের মাথায় তিনি লক্ষপতি হয়ে ওঠেন। বর্তমানে একটি খামার থেকে তিনটি খামারে তিন হাজার মুরগি থেকে বর্তমানে নয় হাজার মুরগি প্রতিদিন দুই হাজার ডিম থেকে পাঁচ হাজার ডিম উৎপাদন হয়। তার প্রতিষ্ঠানের নাম মোল্লা পোলট্রি ফার্ম। রওশনারার সাফল্যের কথা আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের অনেকেই এগিয়ে আসেন সমন্বিত খামার গড়তে। তাদের পথ বাতলে দিচ্ছেন তিনি।
রওশনারা বলেন, ‘আমি যখন খামার করা শুরু করি, তখন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। পরিশ্রম আর মনোবলকে বড় পুঁজি করে এগিয়েছি। একটাই চিন্তা ছিল মাথায়, টাকা যেন পানিতে না যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘুমানো ছাড়া পুরোটা সময় দিয়েছি খামারে। যার ফল আমি হাতে হাতে পেয়েছি। রওশনারা নিজেই তার বাজার দেখাশোনা করেন। তিনি নিজেই সিরাজদীখান ও শ্রীনগর সদরসহ বিভিন্ন দোকানে দিয়ে ডিম সরবরাহের টাকা তুলে আনেন। এদিকে রওশনারার দেখাদেখি গ্রামের অনেকে মুরগির খামার গড়তে এগিয়ে আসছেন।
সিরাজদীখান উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আহসান আলী বলেন, ‘ইচ্ছাশক্তি ছিল বলেই রওশনারা এখন সফল নারী সমাজের উদ্যোক্তা হতে পেরেছেন। তাঁর খামারে সমস্যা হলেই আমরা উপস্থিত হই ও নানা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি।’

Disconnect