ফনেটিক ইউনিজয়
৫ বছর ধরে বগুড়া-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ
এইচ আলিম, বগুড়া

প্রায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে বগুড়া-ঢাকা রুটের বিআরটিসি বাস চলাচল। বগুড়া থেকে সরাসরি ঢাকায় বাস চলাচল নিয়ে কিছু পাবলিক বাস মালিকদের অখুশি ও চলাচলে বাধা সৃষ্টি, দূরের যাত্রাপথের উপযোগী বাস না থাকা, যাত্রীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে ২০১৩ সাল থেকে বন্ধ হয়ে আছে এ রুট।
বিআরটিসি বগুড়া বাস ডিপো সূত্রে জানা গেছে, সরকার নিয়ন্ত্রিত বগুড়া বিআরটিসি ডিপো থেকে ২০১০ সালে ২৯টি রুটে বাস চলাচল করত। বর্তমানে এ ডিপো থেকে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের ২৪টি রুটে ৫০টি গাড়ি চলাচল করছে। ২০১৮ সালে পাঁচটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে  গেছে। লাভজনক থাকায় বগুড়ার যাত্রীদের জন্য ঢাকা রুটে ১ ঘণ্টা পরপর প্রায় ৩০টি নতুন কোরিয়ান দাইয়ু বাস সার্ভিস চালু করা হয় ২০১১ সালে। সরকারি নির্ধারিত ভাড়ায় দুই বছর পর ২০১৩ সালে এসে লোকসানের কথা বলে বাসগুলো ঢাকা রুট থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। বাস সার্ভিস বন্ধ হওয়ার আগে এ রুটে যাত্রীদের বেশ চাপ ছিল। কিন্তু সে সময় অভিযোগ করা হয়, বগুড়ার পাবলিক বাস মালিকরা ঢাকা রুটে বিআরটিসি বাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছেন।
বগুড়া বিআরটিসি বাস ডিপোর কর্মচারীরা বলছেন,  প্রাইভেট বাস মালিকদের প্রভাব ও বাধার কারণে দিন দিন রুট সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন নতুন বাস সরবরাহ না থাকায় যাত্রীরা পুরনো লক্কড়-ঝক্কড় বাসে যাতায়াতে অনাগ্রহী হয়ে উঠেছে।
বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের সাবেক সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না জানান, বিআরটিসি বাস চলাচলে কোনো দিনই কেউ বাধা দেয়নি। তারা বাসগুলো যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে পারেনি। বাসগুলোর সিট সমস্যা ছিল। কয়েক দিন চালানোর পর বিআরটিসির বাসগুলোর সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে পড়ে। এ কারণে যাত্রীরা বিআরটিসির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
বিআরটিসির বগুড়া বাস ডিপো ম্যানেজার (অপারেশন্স) মফিজ উদ্দিন বলেন, ২০১৩ সালের পর থেকে ঢাকা-বগুড়া রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঢাকা রুটে বাস চলাচলে পাবলিক বাস মালিকদের এক ধরনের বাধা রয়েছে। পাবলিক পরিবহন মালিকরা ঢাকা রুটে বিআরটিসি সার্ভিস চালু হোক, সেটা তারা চায় না।

Disconnect