ফনেটিক ইউনিজয়
দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়েই চলছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড
রিফাত রহমান, চুয়াডাঙ্গা

বছরে ৩ কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়েই চলছে চুয়াডাঙ্গা তুলা উন্নয়ন বোর্ড জোন কার্যালয়। বিভিন্ন কৌশলে এ কার্যালয়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম দানা বেঁধেছে। সঠিক তদারকির অভাবে বছর বছর বড় ধরনের অপকর্ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড. আব্দুস সালাম, তুলা ইউনিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান এবং স্টোর কাম মাঠকর্মী (অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবরক্ষক) শয়েন চন্দ্র বর্মণ। এরাই মূলত এ কার্যালয়ের সবকিছু। টাকা হরিলুটের প্রতিবাদ করলেই বিভিন্ন জায়গায় শাস্তিমূলক বদলির হুমকি দেয়া হয়।
জোন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তুলা উৎপাদনের লক্ষে চাষীদের উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, মাঠ দিবস ও পরিদর্শন, দলীয় সভা ছাড়া বিভাগীয় ঋণ দেয়া ও ব্যাংকঋণ পেতে সহায়তা করা, কৃষি উপকরণ দেয়া ও উৎপাদিত তুলা বাজারজাতে সহায়তা করার জন্যই চুয়াডাঙ্গা জেলার ১২টি তুলা ইউনিট ও মেহেরপুর জেলার পাঁচটি তুলা ইউনিট কার্যালয় এবং একটি জিনিং কেন্দ্র নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জোনের কার্যক্রম শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, অংশগ্রহণকারী চাষীদের কাছ থেকে কৌশলে দু-তিনটি শিটে উপস্থিতির স্বাক্ষর নিয়ে মাঠ দিবস, প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ সভা না করে ওই স্বাক্ষরগুলো ব্যবহার করে এরা লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন। এ কার্যালয়ে কোনো প্রকার দরপত্র আহ্বান ছাড়াই সার, বীজ ও কীটনাশক কেনা হয় পছন্দের ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হচ্ছে হাইব্রিড তুলা বীজ কেনার ক্ষেত্রে। এ বীজ মূলত দেশের সুপ্রিম সিড ও লাল তীর কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড. আব্দুস সালাম বলেন, প্রতি অর্থবছরে জোন কার্যালয়ের সব কাজ ও হিসাব-নিকাশের নিরীক্ষা করা হয়। সে কারণে এখানে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রশ্নই আসে না।

Disconnect