ফনেটিক ইউনিজয়
টেকসই বাঁধ না থাকায় ডুবছে নিম্নাঞ্চল
শাহাদাত হোসেন তৌহিদ, ফেনী

টেকসই বাঁধ না থাকা, নদীর পাড়ঘেঁষে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ, অবৈধভাবে বালি উত্তোলন, দীর্ঘদিন নদীতে ড্রেজিং না করাসহ নানা কারণে প্রতি বছরই বড় ধরনের বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার মুহুরী, কহুয়া নদীর আশপাশের এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে কাজ শুরু করে ২০১০ সালে শেষ হয় ফেনীর মুহুরী, কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। কিন্তু নদীর পাড়ঘেঁষে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ, অবৈধভাবে বালি উত্তোলন, দীর্ঘদিন নদীতে ড্রেজিং না করাসহ নানা কারণে এটি ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রতি বছর বন্যা এলেই অনেকের বাড়িতে ঘুমানোর কোনো সুযোগ নেই, উঠানে হাঁটু পরিমাণ পানি, অনেকের ঘরের মেঝেতে পানি, রান্নœার চুলায় আগুন দেয়ার সুযোগ নেই। উপজেলার প্রায় ৩০টি স্থানে ভাঙনের কারণে ২০টির মতো গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। এতে রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট, ফসলি জমি ও মৎস্যচাষীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জানা জায়, প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা কোনো কাজে আসছে না। বরং প্রতি বছরই বানের পানিতে ডুবছে ফেনী সদর, পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে বানের পানি ঠেকাতে খুব একটা কাজে আসছে না ১২৩ কিলোমিটারের এই বাঁধ। ত্রাণ নয়, এলাকাবাসী টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানায় সরকারের কাছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কোহিনুর আলম জানান, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। টেকসই সমাধানের জন্য কারিগরি রিপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায় বলেন, গত বছর যেখানে ভেঙেছে, এবার ভাঙছে নতুন স্থানে। এ অবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারকাজ প্রয়োজন বলে তিনিও মনে করেন।

Disconnect