ফনেটিক ইউনিজয়
গ্রন্থাগারপ্রেমী মঈন উদ্দিন
দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ

বয়স ৮০ বছর পেরিয়েছে অনেক আগে। পায়ে আর জোর নেই। তবুও হেঁটেই চলাফেরা করেন গোপালগঞ্জ নজরুল পাবলিক লাইব্রেরির সাত দশকের অবৈতনিক গ্রন্থাগারিক মঈন উদ্দিন (ময়েন স্যার)। এখনও প্রতিদিন সকালে পাঠাগারের তালা খোলেন তিনি। সদস্যদের বই দেয়া থেকে শুরু করে পাঠাগার পরিচ্ছন্ন করেনও তিনি।
এ লাইব্রেরির আদি নাম ছিল করোনেশন লাইব্রেরি। ১৯১০ সালে রাজা পঞ্চম জর্জের অভিষেক উপলক্ষে ভারতজুড়ে উৎসব উদযাপনের আয়োজন করে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। এজন্য ভারতের সব জেলা এমনকি মহকুমা শহরে অর্থ পাঠানো হয়। নাট্যামোদী ১২ সদস্যের আগ্রহে সিদ্ধান্ত হয় একটি থিয়েটার ক্লাব গড়ে তোলার। এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয় করোনেশন থিয়েটার ক্লাব। সেখানে শহরের সুশীল সমাজের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ একটি পাঠাগার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। ক্লাব পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় করোনেশন পাবলিক লাইব্রেরি।
এ পাঠাগারপ্রেমী হয়ে ত্যাগ করেছেন বিলাসী জীবনের হাতছানি। কলকাতা থেকে এসেছিল বাহারি চাকরির আহ্বান। ‘দ্য ক্যাভেন্ডার্স’ নামে একটি ব্রিটিশ বিপণন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের প্রস্তাব পেলেও পাঠাগারের প্রেমে তা উপেক্ষা করেছিলেন তিনি। ফলে জীবন-বাস্তবতা তাকে ঠেলে দেয় অর্থনৈতিক সংকটের মুখে। শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তখন এগিয়ে এসে তার চাকরির ব্যবস্থা করেন এসএম মডেল স্কুলে। মাত্র ১০০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। বাকি সময় কাটিয়েছেন পাঠাগারে।
পরিবারের সদস্যদের গর্বের কমতি নেই এ মানুষটিকে নিয়ে। স্ত্রীর জাহান জেব বানু জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত স্বামীকে নিয়ে গর্বিত। চার ছেলের প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। বাবাকে নিয়ে গর্বের শেষ নেই সন্তানদেরও। শহরের মধ্যপাড়ায় এ পরিবারটির বাস।
সম্প্রতি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোকলেসুর রহমান সরকার তাকে জাতীয় নজরুল সম্মেলনে সম্মাননা প্রদান করেছেন।

Disconnect