ফনেটিক ইউনিজয়
হারিয়ে যাচ্ছে স্টুডিও ব্যবসা
আশিক বিন রহিম, চাঁদপুর

মোবাইল ফোন আর ডিজিটাল ক্যামেরার আগ্রাসনে হারিয়ে যাওয়ার পথে চাঁদপুরের স্টুডিও ব্যবসা। তাছাড়া অনেক আগেই হারিয়ে গেছে ডার্করুম, নেগেটিভ, ফিল্ম ডেভেলপ করা ও ছবি পজিটিভ করার পুরনো রীতি। ঐতিহ্যবাহী এ স্টুডিও শিল্পে মন্দাভাব দেখা দেয়ায় অনেকেই তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। ফলে ক্যামেরার পেছনে চোখ রেখে ‘রেডি ওয়ান, টু, থ্রি’ বলা ফটোগ্রাফাররা জীবিকার প্রয়োজনে খুঁজে নিয়েছেন উপার্জনের ভিন্ন পথ।
চাঁদপুর শহরের বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্টুডিও মিলন, ইলোরা, আনন্দ, মনিহার (১), মণিহার (২), ছায়াবীথি, একা, মৌ অন্যতম। হাতেগোনা যে কয়টি স্টুডিও এখনও টিকে আছে তা হলো, স্টুডিও শাপলা, দোয়েল, কনিকা, পল্লবী, মায়া, শিমুল, মেঘনা ও বাঁধন। এদিকে বন্ধ হওয়া কিছু স্টুডিওর মালিকরা জানান, এখানে বেশ কয়েকটি উন্নত ল্যাব হওয়ায় মানুষ এখন স্মার্টফোনে তোলা সেলফিগুলো সেখানেই অল্প টাকায় প্রিন্ট করাতে পারছেন।
চাঁদপুর শহরের বহু পুরনো স্টুডিও দোয়েলের মালিক নিরঞ্জন সিংহ রায় (বাচ্চু) জানান, স্টুডিও শাপলার মালিক খোকন চন্দ্রের কাছে তার ফটোগ্রাফি শেখা। এর আগে স্টুডিও শাহীনে বন্ধু তপনের কাছে কিছুদিন কাজ করেছেন। এরপর ১৯৯৮ সালে নিজে প্রতিষ্ঠা করেন স্টুডিও দোয়েল। ওই সময়টা ছিল স্টুডিও ব্যবসার স্বর্ণযুগ। তখনকার সময় মানুষ প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়াও শখের বশে স্টুডিওতে ছবি তুলতে আসত। তাছাড়া বিশেষ দিনগুলো যেমন ঈদ, পূজা, বিয়ে, বৈশাখসহ বিভিন্ন উৎসবে অনেকেই দলবেঁধে ছবি তুলত। আর এখন এসব কেবলই অতীত স্মৃতি। এখন মানুষ শুধু পাসপোর্ট, ভিসাসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজের ছবি তোলার জন্য স্টুডিওতে আসে।

Disconnect