ফনেটিক ইউনিজয়
বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যয়
জাকারিয়া জাহাঙ্গীর, জামালপুর

জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভাসহ উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে মুরগির খামার স্থাপন হওয়ায় বিষাক্ত বর্জ্য ও দুর্গন্ধে পরিবেশ বিপর্যয় হয়ে উঠছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই নির্ধারিত স্থান ও নিয়ম না মেনে এসব খামার গড়ে উঠছে। মুরগির বিষাক্ত বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলায় দুর্গন্ধে জনজীবন বিপর্যস্ত ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। নষ্ট হচ্ছে আবাদি জমির উর্বরাশক্তি।
প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, উপজেলায় ২২৩টি লেয়ার ও ২০১টি বয়লার মুরগির খামার এবং ৭৮টি হাঁসের খামার রয়েছে। এর মধ্যে পৌরসভা, পোগলদিঘা ও ডোয়াইল ইউনিয়নে বেশি খামার। খামারগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ৫০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যা মাসে দেড় সহস্রাধিক টন। এসব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ ও ফেলার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বসতবাড়ির কাছে খামার গড়ার বিধিনিষেধ থাকলেও মানছে না কেউ। অধিকাংশ খামারের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আনসার আলীসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, ‘খামার করে লাভ হচ্ছে খামারির; কিন্তু ক্ষতি হচ্ছে আশপাশের সবার। খামার মালিক  রাঙা প্রভাবশালী হওয়ায় কোথাও কোনো অভিযোগ করে লাভ নেই। এতে স্বাস্থ্য, ফসল ও পরিবেশের ক্ষতি বাড়ছেই।’ এ ব্যাপারে খামারি আব্দুল মালেক রাঙা জানান, ‘আমার জমিতেই আমি খামার করেছি, আমার জমিতেই গর্ত করে বিষ্ঠা ফেলি। মুরগির বিষ্ঠা যাতে দুর্গন্ধ না ছড়ায়, এজন্য নিয়মিত কেরোসিন তেল ও ফিনাইল ব্যবহার করি। এতে কারও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’
ময়মনসিংহ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুর-এ-আলম বলেন. ‘খামারের বর্জ্যে পরিবেশ দূষণের কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Disconnect