ফনেটিক ইউনিজয়
মুক্তি চায় রোহিঙ্গারা
সুজাউদ্দিন রুবেল, কক্সবাজার

‘বাংলাদেশে এসেছি ইচ্ছাকৃতভাবে নয়; মিয়ানমার সেনাবাহিনী অত্যাচার, নির্যাতন, জুলুম, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, শিশুদের জবাই ইত্যাদি সহ্য করতে না পেরে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছি বাংলাদেশে। কেউ নিজ দেশ, ভিটে-মাটি ফেলে আসে না; আসতে বাধ্য করা হয়েছে। এখন এ শরণার্থী জীবন থেকে মুক্তি চাই; আমাদের অধিকার, সম্মান ও নাগরিকত্ব দিয়ে দ্রুত স্বদেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিন।’ কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের নাগরিক মোহাম্মদ আলী (৫৫) এভাবে বিশ্ববাসীর কাছে অনুরোধ করেন।
শুধু উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে নয়; এখন কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ২০টি ব্লকে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের একটি দাবি, শরণার্থী জীবন থেকে মুক্তি এবং অধিকার, সম্মান ও নাগরিকত্ব নিয়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া। উখিয়া-টেকনাফের বড় একটি অংশজুড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে ১১ লাখ রোহিঙ্গা। ফলে দিন দিন বাড়ছে নানামুখী সংকট। এর মধ্যে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী মর্যাদা দেয়ার দাবি থাকলেও তারও সুরাহা হয়নি। তবে আলোচনা-উদ্যোগ যা-ই থাক, নিজ দেশে ফিরতে মরিয়া এসব রোহিঙ্গা। কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অনেকেই বলেন, আমাদের শরণার্থী জীবন ভালো লাগে না। আমরা দ্রুত নিজ দেশে ফিরতে চাই, ভালোভাবে বাঁচতে চাই।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহামুদুল হক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের ইচ্ছার অভাবের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দেরি হচ্ছে। এজন্য বিশ্ববাসীকে এক হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
শরাণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের যাতে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যায়, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথভাবে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত বেশকিছু কাজ এগিয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার চুক্তিও করেছে।

Disconnect