ফনেটিক ইউনিজয়
নতুন ‘আতঙ্ক’ ইয়াবা কারবারিরা
সুজাউদ্দিন রুবেল, কক্সবাজার

সারা দেশে ইয়াবার গেটওয়ে নাফ নদের তীরে গড়ে ওঠা টেকনাফ। এ গেটওয়ে অর্থাৎ টেকনাফে ইয়াবা নির্মূলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) পাঁচটি নতুন ক্যাম্প স্থাপিত হয়েছে। ফলে ইয়াবার স্বর্গরাজ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে পালাতে শুরু করেছে সীমান্তের ইয়াবার কারবারিরা।
সারা দেশের মতো কক্সবাজারেও গেল রমজানের শেষের দিকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়। কিন্তু শুরু হতে না হতে বিতর্কের মুখে অভিযান স্তিমিত হয়ে যায়। ফলে আদৌ ইয়াবা বন্ধ হবে কিনা, তা নিয়ে নানা কথা শুরু হয়। তবে সব বিতর্ক উপেক্ষা করে আবারও ইয়াবা নির্মূলে উদ্যোগ নিয়েছে র‌্যাব।
নতুন পাঁচটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং, টেকনাফ সদর, বাহারছড়া ও হোয়াইক্যং এলাকায়। এর আগে কক্সবাজার ও টেকনাফে আরও দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। নতুন করে স্থাপিত র‌্যাবের প্রতিটি ক্যাম্পে স্থানীয় থানার চেয়ে অধিক জনবল থাকবে। তারা প্রথমত ইয়াবা দমনে লড়বে।
জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সর্বশেষ একটি তালিকা তৈরি করে। সেই তালিকায় কক্সবাজারের ১ হাজার ১৫১ জনের জড়িত থাকার নাম উঠে আসে। এর মধ্যে ৬০ জন গডফাদার। ওই তালিকা অনুযায়ী, কক্সবাজারে আট উপজেলার মধ্যে টেকনাফে ৯১২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী আছে। এছাড়া সদর থানায় ৪৩, রামুতে ৩৪, কুতুবদিয়ায় ৪৮, উখিয়ায় ৭, মহেশখালীতে ৩০ ও পেকুয়ায় ২২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনাফের এক জনপ্রতিনিধি বলেন, টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ থেকে সবচেয়ে বশি ইয়াবা ঢোকে। রাতভর ইয়াবার বড় বড় চালান ঢোকে। কিন্তু অদৃশ্য ইশারায় প্রশাসন এসব না দেখার ভান করে। কক্সবাজার পিপলস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান এলাকার মানুষ সানন্দে গ্রহণ করলেও চিহ্নিত গডফাদাররা এলাকায় অবস্থান করেন। এ কারণে ইয়াবা চোরাচালান বন্ধ হয় না।

Disconnect