ফনেটিক ইউনিজয়
ভাসমান খাঁচায় তেলাপিয়া চাষ
সাজেদ রহমান, যশোর

মণিরামপুরে মুক্ত জলাশয়ে ভাসমান খাঁচায় নতুন প্রযুক্তিতে মাছ চাষ হচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে ও উপজেলা মৎস্য অফিসের তত্ত্বাবধানে ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তিসেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পে’র আওতায় এ চাষ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় উপজেলার কোমলপুর মালোপাড়া-সংলগ্ন ঝাঁপা বাঁওড়ে ১০টি ভাসমান খাঁচায় মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষ করা হচ্ছে। উপজেলা মৎস্য অফিস একে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নিয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় মাছ চাষকে লাভজনক হিসেবে দেখছেন চাষীরা।
উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, ইউনিয়ন পর্যায়ে মাছ চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় মণিরামপুরের ঝাঁপা বাঁওড়ের ১৪২ জন মৎস্যচাষীর মধ্যে ২০ জনকে নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে। দলটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাঁওড়ে ১০টি ভাসমান খাঁচা স্থাপন করে প্রাথমিক পর্যায়ে খাঁচাপ্রতি ১৫ কেজি করে ১৫০ কেজি মাছ ছাড়া হয়েছে, যেখানে প্রতি খাঁচায় মাছ রয়েছে ২৮০টি। একইভাবে খাটুরা বাঁওড়ে আরও একটি প্রকল্প তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। খাঁচা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে লোহার পাইপ, প্লাস্টিকের ড্রাম, নেট ও বাঁশ।
খাঁচা তৈরি, পোনা অবমুক্তকরণ, খাবার সরবরাহসহ প্রকল্পপ্রতি ২ লাখ টাকা খরচ দেবে সরকার। এর অতিরিক্ত খরচ হলে তা বহন করবেন বাঁওড়ের সুবিধাভোগী চাষীরা। মাছের পোনা ছাড়া থেকে শুরু করে ৯০ দিন পর মাছ ধরা হবে। প্রতিটি খাঁচায় ৪০০ কেজি করে একটি প্রকল্প থেকে মোট চার হাজার কেজি মাছ উৎপন্ন হবে বলে ধারণা মৎস্য অফিসের, যা বিক্রি করে পুরো টাকা পাবেন সংশ্লিষ্ট চাষীরা।
মণিরামপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, ‘ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ করতে হলে সাধারণত সারা বছর পানি থাকে এমন নদ-নদী, হাওর-বাঁওড়ের উন্মুক্ত জলাশয় প্রয়োজন হয়। গত জুনে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করা হয়েছে। আমরা ঝাঁপা ও খাটুরা বাঁওড়ের প্রকল্প দুটিকে পাইলট হিসেবে দেখছি। ক্রমান্বয়ে পদ্ধতিটি উপজেলার খাজুরা, খেদাপাড়া, হরিহরনগরসহ বিভিন্ন মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে দেয়া হবে।

Disconnect