ফনেটিক ইউনিজয়
নাটোরে মাছ উৎপাদন বাড়ছে
তাপস কুমার, নাটোর

নাটোরে মাছ উৎপাদন ক্রমেই বাড়ছে। প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর আয়োজন এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে মৎস্য বিভাগের সাথে মৎস্যচাষীদের তৈরি হয়েছে মেলবন্ধন, বেড়েছে সচেতনতা, বেড়েছে উৎপাদন। শস্যভাণ্ডারের মতো নাটোর পরিচিতি পাচ্ছে মৎস্যভাণ্ডার হিসেবেও। জেলার উদ্বৃত্ত মাছ যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের ঘাটতি এলাকাগুলোয়।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১১-১২ সালে জেলায় মাছের মোট উৎপাদন ছিল ৩৩ হাজার ৮৮৬ টন। এর পরবর্তী চার বছরে উৎপাদনের পরিমাণ ক্রমেই বেড়ে হয়েছিল যথাক্রমে ৩৭ হাজার ৬৫৬, ৩৮ হাজার ২৭৫, ৩৯ হাজার ১০৪ ও ৪০ হাজার ৫২১ টন। ২০১৬-১৭ অর্র্থবছরে উৎপাদন আরও বেড়ে হয় ৪২ হাজার ৫৪৭ টন। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উৎপাদন সব রেকর্ড ছাড়িয়ে প্রায় ৫১ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। জনসংখ্যার আনুপাতিক হিসাবে জেলায় বার্ষিক মাছের মোট চাহিদা ৩৭ হাজার ৩৭৬ টন। এর বিপরীতে ৫০ হাজার ৯৯৭ টন উৎপাদনের ফলে উদ্বৃত্ত থাকছে ১৩ হাজার ৬২১ টন। উদ্বৃত্ত এ মাছ যাচ্ছে দেশের ঘাটতি এলাকার চাহিদা পূরণের জন্যে। বিশেষ করে চলনবিল ও হালতিবিলের দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছ সারাদেশেই আদরণীয়। প্রতিদিন ট্রাকবোঝাই মাছ ঢাকাসহ যাচ্ছে সারাদেশে। জেলার ৪ হাজার ৭২২ হেক্টর নদী ও ২ হাজার ২৪৪ হেক্টর বিল এলাকা দেশীয় রকমারি প্রজাতির মাছের মূল উৎস। এর বাইরে ৭ হাজার ৭১২ হেক্টর পুকুর ও দীঘি এবং ২০২ হেক্টর খাল এলাকায় মাছ চাষ করা হচ্ছে। এর বাইরে রয়েছে সাড়ে ৪২ হাজার হেক্টরের মৌসুমি প্লাবন ভূমি।
নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন বলেন, এ উপজেলার মৎস্যভা-ারখ্যাত হালতিবিলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। দেশীয় প্রজাতির মাছ উৎপাদনে এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে।

Disconnect