ফনেটিক ইউনিজয়
শিশুমৃত্যুর অভিযোগ
ফজলুল হক, পাবনা

পাবনার চাটমোহরে অপারেশনের সময় চিকিৎসকের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২১ জুলাই সকালে চাটমোহর পৌর সদরের ভাদুনগরে অবস্থিত বন্ধন ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী ও স্বজনদের রোষানল থেকে বাঁচতে সটকে পড়েন চিকিৎসকরা। জানা গেছে, চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল বাজার গ্রামের আব্দুল মতিনের স্ত্রী সুমী খাতুন (২৫) প্রসব ব্যথা উঠলে তাকে রাত ১১টার দিকে বন্ধন ক্লিনিকে ভর্তি করেন স্বজনরা। এ সময় ক্লিনিকের মালিক ডা. আব্দুল মজিদ রোগীর দ্রুত অপারেশন করতে হবে বলে জানান। অপারেশন বাবদ সাড়ে ৯ হাজার টাকায় মিটমাট করে তাৎক্ষণিক ৩ হাজার টাকা জমা দেন সুমীর স্বজনরা। রাতে ক্লিনিকে ডাক্তার না থাকায় সকালে অপারেশন করা হবে জানিয়ে রোগীকে একটি ব্যথার ইনজেকশন দিয়ে রাখা হয়। পরদিন সকাল ৬টার দিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাজু আহমেদ ও একটি বেসরকারি ক্লিনিকের অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা. আসলাতুল আসিফ রোগীর অপারেশন করেন। এরপর প্রসূতি মা ও শিশুর কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকের অপারেশন কক্ষে প্রবেশ করলে মৃত শিশু দেখতে পান। এ সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের সাথে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে ডা. আসিফ প্রসূতির শ্বশুর গোলাম মওলাকে মারধর করেন।
এ বিষয়ে বন্ধন ক্লিনিকের মালিক ডা. আব্দুল মজিদ বলেন, অপারেশনের পর একটি মৃত কন্যাশিশুর জন্ম হয়। স্বজনরা রোগীকে দেরি করে নিয়ে আসার কারণে অপারেশনের আগেই প্রসূতির গর্ভে শিশুটি মারা গিয়েছিল। তাদের কোনো অবহেলা ছিল না। ভুল বোঝাবুঝির কারণে হট্টগোল হয়েছিল।
রোগীর স্বামী আব্দুল মতিনের দাবি, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের অবহেলার কারণে নবজাতক মারা গেছে। রাতেই ভর্তির পরপর অপারেশন করা হলে শিশুটি মারা যেত না। উল্লেখ্য, এর আগেও বন্ধন ক্লিনিকে একাধিক ঘটনায় কয়েকজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তরফ থেকে নেয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা।

Disconnect