ফনেটিক ইউনিজয়
ইটভাটার জন্য বিকল্প ভাবনা
রাশিদুল হাসান, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ)

ইট তৈরির জন্য ইটভাটার প্রধান কাঁচামাল মাটি। সরকারের কঠোর নীতিমালা রয়েছে খাসপুকুর, খাসজমি, জলমহাল, খালবিল, নদীনালা থেকে মাটি উত্তোলনের। যে কারণে ভাটা মালিকরা কৃষিজমির মালিকদের ভুল বুঝিয়ে অধিক মূল্য দিয়ে মাটি কিনে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে কৃষিজমির ওপরের উর্বর মাটি চলে যাচ্ছে ইটভাটায়। অনুর্বর হয়ে পড়ছে কৃষিজমি।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে চলমান ইটভাটার সংখ্যা প্রায় ৫৫। আরও নির্মাণাধীন কমপক্ষে ১০টি ইটভাটা। প্রতিটি ইটভাটা গড়ে বছরে ৮০ লাখ ইট তৈরি করে। এ হিসাবে ৫৫টি ইটভাটা বছরে ৪৯ কোটি ৫০ লাখ হাজার ঘনফুট মাটি ব্যবহার করে ইট উৎপাদন করছে ৪৪ কোটি। মাটির সহজ জোগান না থাকায় ভাটা মালিকরা কৃষিজমি থেকে তা সংগ্রহ করে জাতীয় বিপর্যয় ঘটাতে চলেছেন।  
স্থানীয় বিএডিসি কার্যালয়ের তথ্যমতে, এক কেজি ধান উৎপাদন করতে প্রয়োজন হয় ১৬ হাজার লিটার পানি। এক টন ধান উৎপাদন করতে খরচ হয় ১ কোটি ৬০ লাখ লিটার (৫ লাখ ১৭ হাজার ৪২৮ কিউসেক) পানি। ভূ-উপরিস্থ পানির মজুদ পর্যাপ্ত না থাকায় কৃষি সেচে ব্যবহৃত পানির ৮০ শতাংশ উত্তোলন করতে হচ্ছে ভূগর্ভ থেকে। সেচকাজে ভূগর্ভের পানির ওপর যে চাপ পড়ছে, তাতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামতে নামতে একদিন শুকিয়ে যাবে। এক বিঘা জমি ১০ ফুট খনন করলে মাটি পাওয়া যাবে ৪০ লাখ ৭৪ হাজার ৯৫০ হাজার ঘনফুট, পানিও ধারণ করবে সমপরিমাণ। তবে ৩০০ হেক্টরের খাস জলমহাল, বিল, মজা পুকুরগুলো মাটিমহাল হিসেবে ইজারা দিয়ে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারে। এতে ইটভাটাগুলো সহজে মাটির চাহিদা পূরণ করতে পারবে। ফলে কৃষিজমি থেকে মাটি সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা হারাবে। অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব ব্যয় করে পুকুর বা জলমহাল খননের অর্থসাশ্রয় হবে।

Disconnect