ফনেটিক ইউনিজয়
ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত পাটচাষিরা
ফয়সাল শামীম, কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম জেলায় আধুনিক পদ্ধতিতে পাট জাগের চেয়ে সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগের প্রচলন বেশি থাকায় পাটের কাক্সিক্ষত রঙ পাননি কৃষকরা। সনাতন পদ্ধতি ব্যবহারে পাটের রঙ কালো ও গুণগত মান খারাপ হওয়ায় চাষিরা নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষি অফিসের সূত্রমতে, রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট জাগ দেয়া হলো আধুনিক পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে প্রথমে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে নিতে হয়, তারপর পাটের আঁশে রিং আকারে আঁটি বেঁধে পানির হাউজের মধ্যে জাগ দেয়া হলে পাটের গুণগত মান ভালো হওয়ার কারণে কৃষকরা পাটের নায্যমূল্য পান। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ পাট চাষের আধুনিক পদ্ধতি ও কাটার পর পাট পচানোর জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিলেও ঝামেলাজনিত কারণে তা মানছেন না কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে, চলতি বছর নয় উপজেলায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে। বিগত বছরে পাটের ভালো ফলন ও দাম আশানুরূপ পাওয়ায় চাষিরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পাট চাষের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। গত কয়েক বছরে চাষিদের উৎপাদিত অন্যান্য কৃষিজাত ফসলে লোকসান হওয়ার কারণে এলাকার চাষিরা পাট আবাদে মনোযোগ দিচ্ছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ১৫ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদন হয়। মানভেদে প্রতি মণ কাঁচা পাট ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। পাট চাষে খরচের তুলনায় বাজারমূল্য কম হচ্ছে বলে স্থানীয় চাষিরা জানান। জেলা কৃষি  কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দেয়ায় গুণগত মান খারাপ হওয়ার কারণে চাষিরা নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

Disconnect