ফনেটিক ইউনিজয়
অপারসম্ভাবনার নাকুগাঁও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট
রফিক মজিদ, শেরপুর

শেরপুর জেলার একমাত্র নাকুগাঁও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টটিতে অপারসম্ভাবনা রয়েছে। তবে সে তুলনায় যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি গত ২০ বছরেও।
জানা গেছে, ১৯৪৮ সালে জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও সীমান্ত ও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলার বারাঙ্গাপাড়া থানাধীন ডালু সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের জনসাধারণের পারাপারের জন্য ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট চালু হলেও নানা কারণে পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৯৭ সালে আবারও চালু হয় ইমিগ্রেশন চেকপোস্টটি। এছাড়া ২০০৪ সালে এখানে চালু হয় শুল্ক স্টেশন । পরে শুল্ক স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের লোকের যাতায়াত ক্রমেই বাড়ছে।
ভ্রমণকারী ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয়ের শিলং, আসামের গোহাটি, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিংসহ মিজোরাম ও অরুণাচলের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার মানুষের জন্য সহজতর হয়ে উঠেছে এ চেকপোস্ট। মাত্র চার-পাঁচ বছর আগেও ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের দুই পাশেই সড়ক যোগাযোগ ছিল খুবই নাজুক। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ থেকে শেরপুরের নাকুগাঁও সীমান্ত পর্যন্ত প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু ভারত ও বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পুরোপুরি অনলাইন চালু না হওয়া, ভ্রমণ কর জমা দেয়ার জন্য কোনো ব্যাংক না থাকা ও মানি চেঞ্জার না থাকায় ভ্রমণকারীদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়।
ভারত সীমান্তের ডালু চেকপোস্টেও একই অবস্থা। সেখানেও কোনো ব্যাংক নেই, নেই মানি চেঞ্জার। ওখানে কাস্টমস ভাবন তৈরি হলেও ইমিগ্রেশন ও বিএসএফ চৌকিতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরি হয়নি। এছাড়া সেখানে ইমিগ্রেশন করতে হয় সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার অদূরে ছইপানি ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফসিহুর রহমান জানান, ইমিগ্রেশন অফিসের অবস্থা নাজুক থাকলেও সম্প্রতি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়া ছয়তলা ভবনের কাজ যেকোনো সময় শুরু হবে এবং অনলাইন সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ভবন নির্মাণ শেষ হলে ইমিগ্রেশনে ভ্রমণকারীদের আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

Disconnect