ফনেটিক ইউনিজয়
সরকারি চাল আত্মসাৎ
আব্দুল আউয়াল, ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়াজ মাহফিল ও নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানে আসা লোকজন এবং এতিম শিশুদের খাবারের জন্য বরাদ্দ দেয়া জেনারেল রিলিফ (জিআর) প্রকল্পের চাল আত্মসাৎ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এতিমখানা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে ইউএনও কার্যালয়ে খাদ্যশস্য সহায়তা পেতে আবেদনপত্র করে। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে চাহিদাপত্র সংগ্রহ করে তা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেয়। ব্যবসায়ীরা ওই চাহিদাপত্র খাদ্যগুদামে জমা দিয়ে তা খোলা বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। প্রকল্পের তালিকায় দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলরহাট ইউনিয়নের ৩৪টি প্রকল্পের মধ্যে ১৯টি দেখানো হয়েছে ওয়াজ মাহফিল, নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান আটটি, মসজিদে উন্নয়ন চারটি ও বিদ্যালয়, মন্দির ও ঈদগাহ ময়দানের নামে একটি করে প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩৪ টন চাল।
রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের সেনিহারি তালতলী দুর্গা মন্দির, ঢোলরহাট ইউনিয়নের মাধবপুর জোতপাড়া দুর্গা মন্দির, গোল্লাল বাবু দুর্গা মন্দির, মাহালিয়াহাট শ্রী শ্রী কালী মন্দির, বড়বাড়ি ধর্মপুর দুর্গা মন্দিরসহ আরও কয়েকটি মন্দিরে নামযঞ্জ অনুষ্ঠানের নামে এক টন করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব স্থানে কোনো অনুষ্ঠান হয়নি।
এছাড়া ঢোলরহাট ইউনিয়নের মাধবপুর জগন্নাথ মন্দির, রুহিয়া ইউনিয়নের সেনিহারি তালতলি হরিমন্দিরের নামে চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও কমিটির লোকজন এ বিষয়ে কিছুই জানে না।
ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার বলেন, আমি প্রকল্প সভাপতি এটা সত্যি। তবে বরাদ্দের চাল আমি তুলতে যাইনি। আর এ মাঠে তো কোনো ইসলামী জলসা হয়নি। জলসার নামে কে চাল তুলেছে, তা বলতেও পারব না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) গোলাম কিবরিয়া বলেন, বরাদ্দের চাল গত জুনের একেবারে শেষ দিকে এসেছে। এ কারণে বরাদ্দের প্রক্রিয়া খুব দ্রুত শেষ করতে গিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমি সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, চাল আত্মসাতের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Disconnect