ফনেটিক ইউনিজয়
চলে গেলেন ‘একাত্তরের জননী’ রমা চৌধুরী
ইমরান সোহেল, চট্টগ্রাম

একাত্তরের জননী সাহসিকা রমা চৌধুরী। তিনি ৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
ষাটের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ছিলেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রথম নারী, যিনি এমএ পাস করেছিলেন। পাস করে তিনি বেছে নিয়েছিলেন শিক্ষকতা পেশাকে। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন বাবার বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার পোপাদিয়া গ্রামে। সঙ্গে ছিলেন মা আর ছোট তিন সন্তান। স্বামী চলে গিয়েছিলেন ভারতে। এর পরের ইতিহাস খুব বেদনাবহ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে তার সন্তান ও মায়ের সামনে চরমভাবে লাঞ্ছিত করে। নিজের সম্ভ্রম হারানোর ভয়ংকর ঘটনাকে আড়াল করে তিনি তিন শিশুসন্তান ও মাকে নিয়ে পথে পথে ঘুরেছেন, জঙ্গলে রাত কাটিয়েছেন। যুদ্ধ শেষেও তার জীবনের যুদ্ধ থেমে থাকেনি। চরম নিগ্রহ আর দরিদ্রতা তার পরিবারকে তছনছ করে দেয়। সাগর, টগর, টুনু পরপর তিন সন্তানকে হারিয়ে তিনি পাথর হয়ে পড়েন। কিন্তু জীবন তো থেমে থাকে না। বেঁচে থাকার জন্য শুরু করেন লেখালেখি। ‘একাত্তরের জননী’সহ ১৮টি বই লিখেছেন তিনি।
তিন সন্তান হারানোর ব্যথা তাকে ভেতরে ভেতরে কুরে কুরে খাচ্ছিল। এ সমাজের ভালোবাসা না পেয়ে তার সন্তানগুলো সব হারিয়ে গেছে। এ কথা তিনি কখনও ভোলেননি। তিনি মাথানত করেননি কখনও, হাত পাতেননি কারও কাছে। ৩০ বছর তিনি খালি পায়ে হেঁটেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলতেন, যে মাটিতে আমার বাচ্চারা ঘুমিয়ে আছে, সে মাটির ওপর দিয়ে আমি জুতো পায়ে হাঁটি কেমন করে?
প্রকাশক আলাউদ্দিন খোকন বলেন, ‘রমা চৌধুরী স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে যেমন কোনো অর্থ সহযোগিতা নেননি, তেমনি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকেও নেননি। নিজের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে চেয়েছেন এ সংগ্রামী নারী।’

Disconnect