ফনেটিক ইউনিজয়
ভাসমান সবজি চাষ কমে গেছে
আল আমিন রুবেল, বরিশাল

সরকারি পুষ্ঠপোষকতা না থাকায় এ বছর ভাসমান সব্জি চাষ সারা ফেলতে পারেনি দক্ষিণাঞ্চলে। প্রতি বছর এমন সময়ে ভাসমান সব্জি চাষের মাধ্যমে আগাম শীতকালীন সব্জি পাওয়া গেলেও এবার কেবলমাত্র চারা তৈরী হচ্ছে স্বল্প আকারে।
সরেজমিনে জানা যায়, ২ বছর পূর্বে সারা বছর পানি জমে থাকা জমিতে ভাসমান পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে স্বাবলম্বি হয়েছেন বরিশাল ও পিরোজপুর জেলার ৬টি উপজেলার কৃষকরা। এতে করে ওই সকল এলাকার কৃষক হতাশা থেকে বের হয়ে অর্থ উপার্জনে সক্ষম হয়। এ জন্য সরকার থেকে তিন বছর মেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। গত ৩ বছর সরকারি সহায়তায় ভাসমান পদ্ধতিতে সব্জী ও মসল্লা চাষাবাদ করে আসলেও প্রায় ২ বছর থেকে সহায়তা পাচ্ছেন না তারা। ওই প্রকল্পের মেয়াদ গত বছর ডিসেম্বরে শেষ হয়। এ প্রযুক্তিকে সারা বছর ধরে রাখতে এবং আরো সম্প্রসারিত করতে ১শ’২৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প দেয়া হলেও গত দেড় বছরে তা অনুমোদন হয়নি। এতে করে ভাসমান চাষ পদ্ধতি সর্বত্র কৃষকদের মাঝে সম্প্রসারিত হচ্ছে না।
আগৈলঝাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, সরকার চাষিদের আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ২০১৩ সালে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্টের অর্থায়নে ‘বন্যা ও জলাবদ্ধ প্রবন এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তন অতিযোজন কৌশল হিসেবে ভাসমান সব্জি ও মসলা উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’ গ্রহণ করে। প্রকল্পের আওতায় বরিশালের আগৈলঝাড়া, গৌরনদী ও উজিরপুর উপজেলা এবং পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলা, নাজিরপুর ও স্বরূপকাঠী উপজেলায় প্রকল্পটি চালু করা হয়। একই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয় গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায়ও।
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন কৌশল হিসেবে এ পদ্ধতির চাষাবাদে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার হয় না। ফলে দেশে সব্জি ও চারা উৎপাদনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কৃষকেরা উপকৃত হবে।

Disconnect