ফনেটিক ইউনিজয়
গাছ রেখেই উন্নয়ন কাজ
সাজেদ রহমান, যশোর

অক্টোবরের শেষের দিকে শুরু হচ্ছে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পুনঃনির্মাণ কাজ। দুই লেনের এ মহাসড়কের কাজ শুরুর প্রায় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করা রাস্তার পাশের প্রাচীন গাছ রেখেই সড়ক উন্নয়ন করা হবে। দুটি প্যাকেজে কাজ চলবে। যশোর শহরের দড়াটানা থেকে বেনাপোল বন্দরের বাংলাদেশ অংশের নোম্যান্সল্যান্ড পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটারের এ মহাসড়কটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২৮ কোটি টাকা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ আরও আগেই শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সড়কপাশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বড় বড় গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হওয়ায় এ নিয়ে আন্দোলন হয় যশোর ও রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে। পরিবেশবিদরা গাছ রাখার পক্ষে সোচ্চার হন। পালিত হয় মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি। এক সময় তা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালত গাছ রাখার পক্ষে রায় দেয়। অন্যদিকে সরকারও নীতিগতভাবে গাছ রেখে ঐতিহাসিক যশোর মহাসড়ক উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে পেরিয়ে যায় অনেক সময়। শেষ পর্যন্ত গাছ রেখেই সড়ক উন্নয়নের সিদ্ধান্ত হয়। তারপর এ নিয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র জমার প্রক্রিয়াও শেষ হয়। এখন বাকি শুধু কাজ শুরু করা। অবশ্য অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত কতটি দরপত্র জমা পড়েছে ও কারা কাজ পাচ্ছে তা প্রকাশ করতে চাননি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী।
দু’লেনের এ মহাসড়কের প্রস্থ হবে সর্বোচ্চ ৩৪ ফিট। গাছ থাকার কারণে কোথাও কোথাও তা কমবে। সাড়ে চার থেকে পাঁচ ফিট গর্ত করে তা প্রথমে বালি, পরে বালি ও খোয়া, পাথর-বালি ও তারপর বিটুমিনাস সারফেস হবে। বিটুমিনাস সারফেসের পুরত্ব হবে ১২০ মিলিমিটার বা প্রায় ৫ ইঞ্চি। ২০১৯ সালের শেষে এ মহাসড়কের পুন:নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করছে সড়ক বিভাগ।

Disconnect