ফনেটিক ইউনিজয়
নদীভাঙনে বিচ্ছিন্ন জনপদ
রাফাত হোসেন বাধন, রংপুর

করতোয়া নদীভাঙনের তীব্রতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং চতরা ও ৬ নং টুকুরিয়া এ ২টি ইউনিয়নের পাড় কুয়েতপুর, পাড় কুমাড়পুর, হামিদপুর, বয়ালমারী, সুজারকুটিসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় পাঁচহাজার বাসিন্দা। গত ছয় বছর ধরে করতোয়া নদীর ভাঙনের ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও মৌলিক চাহিদাসহ সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এ অঞ্চলের বাসিন্দারা। রংপুর জেলার পীরগঞ্জের উপজেলার বাসিন্দা হলেও তাঁদের ভরসা করতে হয় পাশর্^বর্তী ২৫ কিলোমিটার দূরবর্তী দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কাছে।
সরেজমিন জানা যায়, বন্যাকবলিত এলাকায় প্রতিবছর নদীভাঙনে বাড়ি-ঘর ভেঙে যাচ্ছে, ফলে এখানে বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি লেখাপড়া করার জন্য ছেলেমেয়েদের বাইরে পাঠাতে হচ্ছে। এখানে নেই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমনকি সহজে চিকিৎসা সেবাও পাওয়া যায় না এখানে।
মানবাধিকারকর্মী ফখরুল আলম বেঞ্জুর বলেন, রংপুর জেলার এ উপজেলাকে তারা জেলা করার জন্য দাবি করছেন সেখানে যদি করিডোরের মতো বিচ্ছিন্ন জনপদের সৃষ্টি হয়!  সেখানে যদি শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকে, মানুষকে যদি মাইলের পর মাইল নৌকায় কিংবা হেঁটে যেতে হয়, সেখানে তো একটা সময় অপরাধ জগতে পরিণত হবে। আর তাই এ এলাকায়  নদীভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, রংপুর জেলার সদর, পীরগাছা, মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ নিয়ে যমুনাশ্বরী ও ঘাঘট এ দু’টি নদীর ভাঙন থেকে এলাকাগুলোকে রক্ষা করা এবং ড্রেজিং এর মাধ্যমে নদীর নাব্যতা রক্ষার জন্য আমরা একটি প্রকল্প জমা দিয়েছি। আশা করি চলতি বছরেই সেটি পাস হবে।

Disconnect