ফনেটিক ইউনিজয়
ইতিহাসের সাক্ষী ‘দিল্লির আখড়া’
মো. মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার হাওর পার হয়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা। এ উপজেলার বিশাল হাওরের মাঝখানে কাটখাল গ্রামে দিল্লির আখড়া অবস্থিত।
আখড়াটি চতুর্দিকে জলাশয় বেষ্টিত। ফলে আখড়ার এলাকাটিকে মনে হয় দ্বীপের মতো। এক সময় এ নদীপথে কোনো নৌ চলাচল করতে পারতো না। রহস্যজনক কারণে এ নদীপথে চলাচলকারী নৌকা ডুবে যেতো বা অন্যকোনো দুর্ঘটনায় পতিত হতো। তাই কেউ সহসা এদিকে আসার সাহস করত না। কিছুটা দূরেই বিথঙ্গলের আখড়া। যেটি এর চেয়েও পুরনো। বিথঙ্গল আখড়ার সাধক রামকৃষ্ণ গোস্বামী শিষ্য নারায়ণ গোস্বামীকে এখানে পাঠান। একদিন এ নদীপথে দিল্লির সম্রাট প্রেরিত একটি কোষা নৌকা মালামালসহ ডুবে যায়। আরোহীরা অনেক চেষ্টার পরও নৌকাটি উঠাতে গিয়ে ব্যর্থ হন। সাধক নারায়ণ গোস্বামী সেই ডুবে যাওয়া নৌকাটি মালামালসহ উঠিয়ে দেয়। পরে দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছে এ খবর পৌঁছানোর পর তিনি সাধক নারায়ণ গোস্বামীর নামে বিশাল এলাকা দেন। এতে একটি আখড়া প্রতিষ্ঠা পায়। সে থেকে আখড়াটিকে ‘দিল্লির আখড়া’ নামে পরিচিতি হয়ে আসছে।
দিল্লি আখড়া প্রতিষ্ঠার বর্তমান বয়স প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর। আখড়ার ৩৭২ একর জমির চারপাশে বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে প্রায় শত শত হিজল গাছ। সম্রাট জাহাঙ্গীর ১২১২ সালে আখড়ার নামে একটি তামার পাত্রে আখড়ার জমি লিখে দেন। কিন্তু ১৩৭০ সালে ডাকাতরা এ পাত্রটি নিয়ে যায় বলে আখড়ার সেবায়েতরা জানান। এ আখড়ায় প্রতি বছর ৮  চৈত্র দুইদিনের মেলা বসে। পরিদর্শন করে মুগ্ধ হচ্ছেন পর্যটকরা। অনেকে মনে করেন, এ আখড়া ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে।

Disconnect