ফনেটিক ইউনিজয়
রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ
কৃষ্ণ ব্যানার্জী, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন ও প্রকৃতি ঘেরা দেবহাটা। বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় আছে ঐতিহ্যবাহী বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান আর প্রাচীন ও প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন। এখানে ইছামতি নদী ও রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন পর্যটকরা। এছাড়া বিস্তীর্ণ বটগাছ আর ১৮ জমিদারের স্মৃতিবিজড়িত টাউন শ্রীপুর গ্রামে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি লক্ষণীয়।
দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিবনগর গ্রামে ৩১ দশমিক ৪৬ একর জমির ওপর প্রায় পাঁচবছর আগে বিনোদনের লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয় ‘রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র’। পিকনিক স্পট হিসেবে সুন্দরবনের আদলের এই জায়গা বেশ জনপ্রিয়। সুন্দরবন থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এনে রোপণের পাশাপাশি এখানে খনন করা হয় একটি দীঘি। এছাড়া আছে একটি রেস্টহাউজ।
বর্তমান ইউএনও’র উদ্যোগে ট্রেইল নির্মাণ, দীঘিতে প্যাডেল বোট রাখা, পাকা বেঞ্চ নির্মাণসহ বাঘ, হরিণ, কুমির, বানরসহ বিভিন্ন পশু-পাখির কৃত্রিম ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। শিশুকর্নারে বিভিন্ন খেলনা সামগ্রী ও পর্যটকদের বসার জন্য রয়েছে ১০টি গোলঘর। আগামীতে এখানে শিশুদের উপযোগী ট্রেন, ক্যাবল কার ও মিনি চিড়িয়াখানা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে উপজেলা প্রশাসনের।
ইছামতি নদীর তীরঘেঁষে টাউন শ্রীপুর, সুশীলগাঁতী ও দেবহাটা পাশাপাশি তিনটি গ্রাম। ইছামতির ওপারে ভারতের হাসনাবাদ রেলস্টেশন। মূলত এজন্যই ব্রিটিশ শাসনামলে এই অঞ্চলে মানুষের দ্বিতীয় ঠিকানা ছিল কলকাতা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ বলেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিক দিয়ে দেবহাটার গুরুত্ব অনেক। একসময়ের দেবহাটা গ্রাম এখন উপজেলা সদর।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মো. ইফতেখার হোসেন আশ্বাস দিয়েছেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মুগ্ধ করতে আরও সৌন্দর্যময় করা হবে রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ। পাশাপাশি ঐতিহাসিক নিদর্শন, বনবিবির বটতলা, টাকির ঘাটসহ অন্যান্য পর্যটক কেন্দ্রগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করতে পর্যটন করপোরশনের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

Disconnect