ফনেটিক ইউনিজয়
একই উঠানে মসজিদ-মন্দির
এস কে সাহেদ, লালমনিরহাট

গত মাসে শেষ হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব দুর্গাপুজা। আর শারদীয় দুর্গাপূজার নানা আয়োজনে উলুধ্বনি, ঢোল ও শঙ্খ বাজনার তালে তালে চলছিল পুজা অর্চনা। কিন্তু হঠাৎ মসজিদের মাইকে ধ্বনিত হলো আছরের নামাজের আযান। সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেল ঢোলের বাজনা ও পূজা অর্চনা। একই উঠানে শতবর্ষী মসজিদ-মন্দির, লালমনিরহাট জেলা শহরের কালীবাড়ী এলাকায় এ দৃশ্য চোখে পড়ে। এ যেন ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এ বিষয়ে দুই সম্প্রদায়ের স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, আমরা মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যরা বসে ঠিক করে নেই কখন এবং কিভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করা হবে। নামাজের সময়গুলোতে সকল প্রকার বাদ্য বাজনা বন্ধ রাখা হয় এবং নামাজ শেষে মুসুল্লিরা দ্রুত মসজিদ ত্যাগ করে পূজারীদের জন্য সুযোগ করে দেন। এটাই এখানকার নিয়ম।
এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ শিকদার আলী (৮০) জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই উঠানে মসজিদ-মন্দির হলেও উভয় ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে থেকে ধর্ম পালন করে আসছেন। ধর্ম পালন নিয়ে কখনও কোনো বাকবিতণ্ডা হয়নি এ পর্যন্ত। শুধু নামাজ বা পূজা অর্চনাই নয়, উভয় ধর্মের সকল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়েই পালন করছেন এখানকার মানুষ।
মন্দিরের সভাপতি জীবন কুমার সাহা জানান, ১৮৩৬ সালে দুর্গা মন্দির প্রতিষ্ঠার আগে এখানে কালী মন্দির প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় পুরান বাজার এলাকা অনেকের কাছে কালীবাড়ী নামে পরিচিত হয়ে উঠে। এরপর মন্দির প্রাঙ্গণে ১৯০০ সালে একটি নামাজ ঘর নির্মিত হয়। এ নামাজ ঘরটিই পরবর্তীতে পুরানবাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে।
মসজিদের ইমাম মাওলনা আসাদুল ইসলাম জানান, উভয় ধর্মের লোকদের সম সুযোগ দিয়েই এখানে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা হয়।

Disconnect