ফনেটিক ইউনিজয়
ঔষধিগুণসম্পন্ন বাসক
কৃষ্ণ ব্যানার্জী, সাতক্ষীরা

বাড়িতে বাড়িতে ঘেরা বেড়া দেয়ার কাজে বেশ জনপ্রিয় বাসক গাছ।  গ্রাম জুড়ে এর ছড়াছড়ি। এক ধরনের দুর্গন্ধের জন্য এর পাতায়  গবাদি পশু মুখ দেয় না। ফলে সহজেই জমি ও বাড়ি ঘেরার কাজ চলে। বাসক পাতার কদর রয়েছে বেশ। সর্দি কাশি সারাতে সবুজ বাসক পাতা রস করে খেলে উপকার পাওয়া যায়। কিন্তু এই পাতা যে মানুষের অর্থনৈতিক চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে তা ছিল ধারণার বাইরে।
সাতক্ষীরা অঞ্চলে বাসক গাছ জন্মায় প্রচুর পরিমাণে। ঘেরা বেড়ায় ব্যবহার করা এর পাতা ছিঁড়লে গাছ মরে যায় না। আবারও নতুন নতুন পাতা গজায়। সারা বছর চলে নতুন পাতা গজানো। ডাল কেটে মাটিতে পুঁতে দিলে হয়ে উঠে নতুন গাছ। আর্দ্র ও সমতল ভূমিতে এই উদ্ভিদ জন্মায়। বিদঘুটে গন্ধের কারণে এতে ছত্রাক জন্মায় না। এমনকি পোকা-মাকড়ও ধরে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিনিধি মো. শামীম আলম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প ব্লু গোল্ডের আওতায় ২৮৫ জন নারী এখানে বাসক পাতা সংগ্রহ করছেন। আর এই পাতা কিনে নিচ্ছে ওষুধ কোম্পানিগুলো।  বাসক পাতা যেমন আনতে পারে অর্থনৈতিক বিপ্লব, তেমনি বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই পাতা দেশের ওষুধ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. নাসরিন আক্তার বলেন,  বাসক উদ্ভিদের  জন্ম ও বৃদ্ধিতে সাতক্ষীরার মাটি অনুকূল। বেশি বেশি করে বাসক গাছ লাগালে এর পাতা দেশের ওষুধ শিল্পে  অবদান রাখা ছাড়াও গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে।

Disconnect