ফনেটিক ইউনিজয়
জোঁকের উপদ্রব বেড়েছে
নওশাদ রানা সানভী, টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের মধুপুরে জলে-স্থলে সর্বত্র এখন জোঁকের উপদ্রব। এই জোঁকের আক্রমণে নাকাল উপজেলাবাসী। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত নারী, শিশু এবং গৃহপালিত পশু। বিভিন্ন বিলের পানিতে ছোট-বড় অসংখ্য জোঁক রয়েছে। স্থানীয়রা যাকে ‘মইষা জোঁক’ বলে থাকে। মানুষজন বিলে মাছ ধরতে, মাঠে ফসল কাটতে এবং গবাদিপশুর ঘাস কাটতে পানিতে নামলেই আক্রমণ করে এই জোঁক। আবার উপজেলার বিভিন্ন ঝোপ-জঙ্গল এবং রাস্তা-ঘাটের দুইধারের ঘাসের মধ্যে থাকে লাখ লাখ ছোট জোঁক। স্থানীয়রা যাকে চীনা জোঁক বলে থাকে। সাধারণত রাস্তা দিয়ে হাটতে গিয়ে ঘাস থেকে পায়ে ধরে বসে। অপরদিকে গবাদিপশু ঘাস খাওয়ার সময় পশুর নাক, চোখ, ঠোঁট, চোয়াল এবং চার পায়ে অসংখ্য চীনা জোঁক ধরে থাকে।
উপজেলার প্রায় সবক’টি ইউনিয়নে এই জোঁক রয়েছে। কুড়ালিয়া ইউনিয়নের কদিমহাতীল, জয়নাতলী, টিকরী গ্রামে এবং মহিষমারা, আউশনারা, অরণখোলা, বেরীবাইদ ও শোলাকুড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সবচেয়ে বেশি জোঁক রয়েছে।
জোঁক বিশেষজ্ঞ ডা. রায়ের মতে, জোঁক সাধারণত ভেজা, অন্ধকারাচ্ছন্ন ও স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় বেশি থাকে। এরা মাটির নিচে থেকে শুরু করে, ঘন বন-জঙ্গল, লতা-পাতায় এবং ডালেও থাকতে পারে। কিছু কিছু প্রজাতি আবার পানিতেও থাকে। জোঁক তাপমাত্রা ও কম্পনের প্রতি সংবেদনশীল। মানুষসহ গরম রক্তের কোনো প্রাণী তার পাশে দিয়ে গেলেই চুপচাপ তার শরীরের সাথে লেগে যাবে। এরপর তাদের অসংখ্য দাঁত দিয়ে শরীরে ছিদ্র করে হিরুডিন নামক একটি এনজাইম নির্গত করে দিয়ে চোষকের মাধ্যমে রক্ত খেতে থাকবে। এই কাজটি তারা এতটাই দক্ষতার সাথে করে যে মানুষও একটা পর্যায় পর্যন্ত তাদের অস্তিত্ব বুঝে উঠতে পারে না।

Disconnect