ফনেটিক ইউনিজয়
মধুমতি নদীতে নৌকা বাইচ
দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জের বৌলতলীতে লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে মধুমতি নদীর বিলরুট ক্যানেলে শত বছরের অধিক সময় ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে নৌকা বাইচ। এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন এলাকার মানুষ। উপভোগ করেন কাঁসার বাটিতে বাদ্যের তালে তালে মাল্লাদের গাওয়া জারি সারি আর  বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ।
গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নৌকা বাইচে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, নড়াইল, বরিশাল জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের ২৫টি সরেঙ্গা, সিপ, বাছারী নৌকা অংশ নেয়। বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এ নৌকা বাইচ। গ্রাম বাংলার প্রাচীন কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও নিজস্বতা ধরে রাখতে এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়। যা দেখতে এসে প্রাণের সঞ্চার হয় হাজার হাজার মানুষের। নৌকা বাইচ শুরু হওয়ার আগে থেকে বৌলতলী বাজার এলাকার নদীর দু’পাড়ে জড়ো হন কয়েক হাজার দশর্ক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সম্মিলিত স্রোতধারায় পরিণত হয় সম্প্রীতির এক মিলন উৎসবে। এ উপলক্ষে নদীর দু’পাড়ে বসে মেলা। মেলায় বসে মিষ্টি, মাটির খেলনা, আসবাবপত্র, বাঁশ ও বেতের সরঞ্জাম, গহনার দোকান। মিষ্টিপান, জিলাপি, ঘটিগরম চানাচুর কিনতে কেউই ভুল করেন না। দূর-দূরান্ত থেকে উপভোগ করতে আসা দর্শকেরা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নেন মেলা থেকে।
এবার অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় প্রথম হন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোয়াল গ্রামের বিরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের নৌকা। দ্বিতীয় হয়েছে একই উপজেলার কলিগ্রামের অসিত বাড়ৈর নৌকা ও তৃতীয় হয়েছে বরমপাল্টা গ্রামের মোহনবাঁশি পাণ্ডের নৌকা। বিজয়ী সবাইকে ২১ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন ও অংশগ্রহণকারী সকল নৌকাকে সাদাকালো টেলিভিশন দেয়া হয়। আয়োজক বাবুল আক্তার বাবলা বলেন, আমাদের মাঝ থেকে দেশীয় সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। তাই এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়।

Disconnect