ফনেটিক ইউনিজয়
সংকটের মুখে চলনবিলের শুঁটকি শিল্প
ফজলুল হক, পাবনা

পাবনা জেলার চলনবিল কয়েক বছর আগেও আশি^ন-কার্তিক মাসে বাতাসে ভাসতো শুঁটকি মাছের গন্ধ। এ সময় মাছ শুকানোর কাজে সারা দিন ব্যস্ত থাকতেন শুঁটকি শিল্পের সাথে জড়িত শত শত নারী-পুরুষ শ্রমিক। কালের বিবর্তনে মাছের যোগান কমে আসায় এ শিল্পে ভাটা পড়তে থাকে। চলতি মৌসুমে এ শিল্পের পরিধি একেবারেই কমে এসেছে। কাঁচা মাছ সংকটের কারণে অনেক শুঁটকি ব্যবসায়ী চলতি মৌসুমে এ ব্যবসা শুরুই করতে পারেননি।
এ বছর আশি^নের শেষ দিকে চলনবিলের নদী খাল-বিলের পানি দ্রুত কমে যায়। অন্যান্য বছর এ সময় প্রচুর মাছ ধরা পড়লেও এ বছর তার ব্যতিক্রম। যে সামান্য পরিমাণ মাছ ধরা পড়েছে তা এ এলাকার জেলেরা অধিক দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন। বিল এলাকার অন্যতম মাছের আড়ৎ, হাট-বাজার থেকে কাঁচা মাছ কিনে ব্যবসায়ীরা তা সরবরাহ করছেন ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলায়।
কয়েকজন শ্রমিক বলেন, গত কয়েক বছর যাবত শুঁটকি মৌসুমে শুঁটকির চাতালে কাজ করছি। কিন্তু মাছের এমন আকাল আগে কখনো দেখিনি। অন্যান্য বছর কার্তিক মাসে সবচেয়ে বেশি মাছ ধরা পরতো। কিন্তু এ বছর চলনবিল এলাকায় বেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ব্যবসায়ী এ পর্যন্ত ব্যবসা শুরুই করতে পারেননি।
এ বিষয়ে চাটমোহর সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, অন্যান্য বছর চলনবিলের পানি ধীর গতিতে নিষ্কাষিত হলেও এ বছর তা দ্রুত নিষ্কাষিত হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বিল থেকে পানি নেমে যাওয়ায় অন্যান্য বছরের মতো মাছ ধরা পড়েনি। তা ছাড়া আশ্বিনের শেষে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পানি দ্রুত নামলেও মাছ ধরতে পারেনি জেলেরা। ফলে মাছ শুঁটকি করাও সম্ভব হচ্ছে না।

Disconnect