ফনেটিক ইউনিজয়
বন্ধ হতে চলেছে তাঁত শিল্প!
ফয়সাল শামীম, কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের তাঁতীরা আগের মতো বাবা-দাদার পেশায় টিকে থাকতে পারছেন না।
এলাকাবাসী জানায়, চরাঞ্চলের এই এলাকায় বসত গড়ে তাঁতে কাপড় বুনতে শুরু করেন কয়েকটি পরিবার। তখন চরের জমিতে চাষাবাদ করা ফসল দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সে সময় এই তাঁতে কাপড় বুনে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারগুলোর দেখা দেখি ঘরে ঘরে তাঁতের প্রসার ঘটতে থাকে। পরবর্তীতে রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার তাঁত শিল্প গড়ে ওঠে।
এরপর জীবন-জীবিকার ব্যয় বৃদ্ধিতে আর্থিক অনটন, সুতার দাম বৃৃদ্ধি, উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য না পাওয়া, বৈদেশিক বাজার সৃষ্টি করতে না পারা, দেশের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকতে না পারা, যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হওয়া এবং সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এ তাঁতশিল্প। বর্তমানে এই তাঁতের সংখ্যা কমতে কমতে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। রৌমারী উপজেলার প্রায় এক থেকে দেড়শ’ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প।
এ বিষয়ে চর শৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান কেএম ফজলুল হক ম-ল বলেন, আমার ইউনিয়নের চর কাজাইকাটা, ফুলকারচর, খেওয়ারচর, গেন্দার আলগা,  সোনাপুর, চরশৌলমারী ও বন্দবেড় ইউনিয়নে বাঘমারা, পালেরচরে প্রায় বিশ হাজার তাঁত ছিল। তা বন্ধ হতে হতে এখন এখন সব গ্রাম মিলে সচল তাঁত আছে দুই হাজারের মতো।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন বলেন, আমি রৌমারী উপজেলার তাঁত শিল্পের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। সরেজমিন গিয়ে তাদের সাথে কথা বলে যে রকম সুবিধা দিলে তারা এই তাঁত শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখে স্বাবলম্বী হতে পারবে আমরা সে রকম সুবিধাই প্রদান করবো।

Disconnect