ফনেটিক ইউনিজয়
হুমকির মুখে বিস্তীর্ণ জনপদ
জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। অব্যাহত ভাঙনে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ। নদীও হাওরবেষ্টিত দোয়ারাবাজারের জনগণ অভাব-অনটন মোকাবিলা ও নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত নদী ভাঙছে গ্রামের পর গ্রাম। এতে বহু মানুষ সম্পদ হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। নদীর তীরে বসবাসকারী বহু মানুষ সারাক্ষণ ভাঙন আতঙ্কে মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
জানা গেছে, জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলা ভারতের মেঘালয়ের পাদদেশে সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান। উন্নয়নের ক্ষেত্রে সারা বাংলাদেশের মধ্যে অনেক পিছিয়ে রয়েছে এ উপজেলা। ভাঙনের মুখে গ্রামগুলো হলোÑ ভুজনা, মাছিমপুর, মাঝেরগাঁও, উমরপুর, হরিপুর কালিকাপুর আজমপুর, সোনাপুর, কদমতলী, কাটাখালী, জলালপুর, নূরপুর, নন্দীগ্রাম, হাজারীগাঁও ও আমবারীবাজার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত বছরে সুরমার ভাঙনের হাত থেকে দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রামকে রক্ষা করতে এমপি, মন্ত্রীদের প্রতিশ্রুতি শুনেছেন কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এদিকে ২০ অক্টোবর দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদকে নদীভাঙন থেকে রক্ষার জন্য কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় এমপি মুহিবুর রহমান মানিক। কাজ দীর্ঘদিন ধরে অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত চার ভাগের এক ভাগও কাজ হয়নি। কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নদীভাঙন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের সামনে নদীভাঙন কাজে অনিয়ম হচ্ছে। দায় সারাভাবে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বার বার চেষ্টা করেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমিরী বিল্ডার্সের সারোয়ার হোসেনকে পাওয়া যায়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, এ প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হওয়ার কথা।  যে বালু ব্যাগে ভর্তি করার কথা ছিল সে বালু পাওয়া যায় না। তাই এই বালু ব্যবহার করা হচ্ছে।

Disconnect