ফনেটিক ইউনিজয়
রাকসু নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা
মানিক রাইহান বাপ্পী, রাবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদিচ্ছাসহ নানা জটিলতায় দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বন্ধ আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন। ১৯৮৯ সালের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে দেশে নানা অস্থিরতার অজুহাত তুলে বন্ধ করে দেওয়া হয় রাকসু নির্বাচন। এর পর থেকেই ছাত্র সংগঠনগুলোও এতদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নির্বাচনের বিষয়ে চাপ দিয়ে আসছে। তবে এই পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রস্তুত থাকলেও ছাত্র সংগঠনগুলোর নিষ্ক্রিয়তায় রাকসু নির্বাচন ঝুলে আছে। তবে ছাত্রসংগঠন নেতাদের দাবি প্রশাসন মৌখিকভাবে স্বীকৃতি দিলেও নির্বাচন বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত কয়েকমাস আগেও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সরব ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্র সংগঠনগুলো। বিশেষ করে রাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন মঞ্চের ব্যানারে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলন, ১৫ ডিসেম্বর থেকে চার দিনব্যাপী গণস্বাক্ষর, ১৯ ডিসেম্বর উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি, ২৩ ডিসেম্বর বিতর্ক ও মুক্ত আলোচনা, ৩১ ডিসেম্বর বিক্ষোভ সংহতি সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাকসু নির্বাচন নামে একটি বুলেটিনও প্রকাশ করে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শাকিল হোসেন বলেন, রাকসু নির্বাচনের জন্য তারা তৎপর থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের সংগঠন ছাত্রলীগের ভূমিকা তেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তারা এগিয়ে আসলে দ্রুত দাবি আদায় সম্ভব। তাই তারা সামনে এগোতে পারছেন না। তবে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত আছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের চব্বিশ দফার দাবির মধ্যে প্রথমটিই ছিল রাকসু নির্বাচন। এ দাবি আদায়ে সোচ্চার আছে সংগঠনটি।
ভিসি প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান সাম্প্রতিক দেশকালকে জানান, আমরা প্রস্তুত আছি। যারা এই নির্বাচন করবে তাদের ভিতর তো তেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখতে পাই না। আমি চাই খুব শিগগিরই রাকসু নির্বাচন হোক। নির্বাচন দিতে কোনো আপত্তি নেই।

Disconnect