ফনেটিক ইউনিজয়
২৫ বছর পর ধান চাষে ফিরছেন
এসএস শোহান, বাগেরহাট

বাগেরহাটে ২৫ বছর পর অনাবাদি জমিতে ধান ও সবজি চাষে ফিরেছেন ১৭ হাজার কৃষক। বেড়িবাঁধের ফলে লবণাক্ত পানি ঢোকা বন্ধ হওয়ায় এ সুবিধা পাচ্ছেন কৃষকরা। জেলার মোড়লগঞ্জ ও রামপাল উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় সবজি ও ধান চাষ করতে পারতেন না এ অঞ্চলের কৃষকরা। নিজের জমি থাকা সত্ত্বেও ফসল না হওয়ায় দুঃখ-দুর্দশায় দিন কাটতো কৃষকদের।
সরেজমিন মোড়লগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নের খারুইখালী গ্রামে দেখা যায়, এলাকার মাঠ-ঘাট, বাড়ির আঙ্গিনা ও রাস্তার পাশ সব জায়গা ভরে আছে লাউ, কুমড়া, মুলা, মরিচসহ বিভিন্ন সবজিতে। মাঠজুড়ে রয়েছে সবুজ ধানের সমারোহ। মোড়লগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে বেশি লবণাক্ত তেলিগাতি, পুঁটিখালী, পঞ্চকরণ, বৈজ্ঞহাটি ও জিউধরা ইউনিয়নের প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে নতুনভাবে সাড়ে ৭ হাজার চাষি ধান চাষ করছেন। এছাড়া রামপাল উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে ১০ হাজার চাষি ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করছেন।
পঞ্চকরণ গ্রামের কৃষক জালাল শরীফ বলেন, ২৫ বছর আগে ৫২ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে ১২ থেকে ১৩শ’ মণ ধান পেতাম। এরপর বাগদা চিংড়ি চাষের জন্য প্রভাবশালীরা বেড়িবাঁধ কেটে লবণ পানি ঢুকিয়ে এলাকার জমিগুলোকে ফসল চাষের অযোগ্য করে তোলে। এখন লবণ পানি না ঢোকায় বছর দু’য়েক হলো আমরা ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ শুরু করেছি। হাসি ফুটেছে এলাকার মানুষের মুখে।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, মোড়লগঞ্জ ও রামপালে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর অনাবাদি জমিতে বোরো চাষ শুরু করেছে কৃষকরা। লবণ পানি প্রবেশ বন্ধ হওয়ায় দিন দিন এ এলাকায় চাষাবাদের জমি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Disconnect