ফনেটিক ইউনিজয়
সেবাবঞ্চিত পাংখোয়া সম্প্রদায়
মঈন উদ্দীন বাপ্পী, রাঙ্গামাটি

রাঙ্গামাটির দুর্গম এলাকা বিলাইছড়ি উপজেলায় বসবাস করে পাংখোয়া সম্প্রদায় নামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। রাঙ্গামাটির পুরো জেলাজুড়ে তিন হাজার পাংখোয়া বসবাস করলেও শুধু বিলাইছড়ি উপজেলার বিলাইছড়ি ইউনিয়নে পাংখোয়াদের নিয়ে পাংখোয়া পাড়া গঠিত হয়েছে। এই এলাকায় দেড় হাজার পাংখোয়ার বসবাস।
পাংখোয়া পাড়ার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা পানি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উপজেলা সদরের সাথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় তাদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। এই এলাকায় রয়েছে একটি মাত্র সরকারি প্রাইমারি স্কুল। তাই প্রাইমারি পাস করলে পরবর্তী ধাপের শিক্ষাগ্রহণের জন্য এ সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের বিলাইছড়ি সদরে আসতে হয়। পাড়ি দিতে হয় নৌপথে এক থেকে দেড় ঘণ্টার পথ। কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে গেলে অর্ধেক পায়ে হেঁটে আবার অর্ধেক নৌকায় চড়ে সদরে আসতে হয়। দরিদ্র পরিবারের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা তাই প্রাইমারি স্কুলের গ-ি পেরুলেই লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটে। পিতৃপ্রধান এ সম্প্রদায়ের প্রধানত আয়ের উৎস হলো জুম, কাঠ এবং জলেভাসা জমিতে চাষাবাদ। নিজেদের পাংখোয়া ভাষায় কথা বলার পাশাপাশি এ জনগোষ্ঠী শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে পারদর্শী।
লাইতাত পাংখোয়া জানান, আমাদের এখানে বিশুদ্ধ পানির অভাব। আমাদের গ্রামে কোনো উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নেই স্বাস্থ্যব্যবস্থা। উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম পানিপথ। কোনো মানুষ অসুস্থ হলে দীর্ঘ এক থেকে দেড়ঘণ্টা পানি পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়। হ্রদের পানি শুকিয়ে গেলে উপজেলা সদরের সঙ্গে পুরোপুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। তাই এ গ্রামে একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
এ বিষয়ে বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইকবাল  জানান, পুরো এলাকাটি হলো দূর্গম। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত নয়। এখানে উন্নয়ন করতে হলে এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন করতে হবে।

Disconnect