ফনেটিক ইউনিজয়
দখল-দূষণে ভৈরব, রূপসা ও ময়ূর
জিয়াউস সাদাত, খুলনা

দখল আর দূষণের ফলে সংকটে পড়েছে খুলনার ভৈরব, রূপসা ও ময়ূর নদী। খুলনা মহানগরীর তিনদিক রূপসা, ভৈরব ও কাজীবাছা নদী দ্বারা বেষ্টিত। এছাড়া ময়ূর নদী চলে গেছে নগরীর বুক চিরে। এর মধ্য রূপসা ও ভৈরবের দুই তীরে রয়েছে অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের রাসায়নিক বর্জ্য প্রতিনিয়ত নদীর পানিতে মিশছে। ফলে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা। এ কারণে জলজ প্রাণিও অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। আর ময়ূর নদের জলজ প্রাণি একেবারেই বিলুপ্তির পথে। এদিকে, নদীগুলো দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে ভূমিদস্যু ও কতিপয়  রাজনৈতিক নেতা-কর্মী। দূষণ ও দখলে নদীগুলো অস্তিত্ব সংকটে থাকলেও বিভাগীয় শহর খুলনায় নেই কোন নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট। নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট না থাকায় এসব নদী রক্ষায় তেমন কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয় না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়া কারখানার বর্জ্য শোধন করে রূপসা নদীতে ফেলার নিয়ম থাকলেও খরচ বাঁচাতে অনেক প্রতিষ্ঠানই সে নিয়ম মানছে না। ফলে মাছ ও জলজ প্রাণির স্বাভাবিক বেঁচে থাকার পরিবেশ বিঘিœত হওয়ার পাশাপাশি মাছের পোনার নার্সারি গ্রাউন্ড ধ্বংস হচ্ছে। এছাড়া ভৈরব ও রূপসার দুইতীরে রয়েছে বেশ কয়েকটি পাটকল। এসব প্রতিষ্ঠানের বর্জ্যও মিশে যাচ্ছে নদীর পানিতে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও ম্যাচ ফ্যাক্টরির রাসায়নিক বর্জ্য নদীতে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। কেসিসি’র ২২টি খাল ও কয়েকশ’ ড্রেনের পানি কোনো ধরনের শোধন ছাড়াই সরাসরি গড়িয়ে পড়ছে নদীতে। এছাড়া নদী তীরে রয়েছে অসংখ্য ঝুলন্ত পায়খানা।
পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার বিভাগীয় পরিচালক মো. হাবিবুল হক খান বলেন, ড্রেন ও নালা-নর্দমার ময়লা-আবর্জনা ও দূষিত পানি নদীতে পড়ায় নদীর পানি দূষিত হচ্ছে।

Disconnect