হেসেখেলে জিতলো ভারত

রোহিত শর্মা।

রোহিত শর্মা।

রোহিত শর্মার ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশের দেওয়া ১৫৪ রানের লক্ষ্য হেসেখেলে অতিক্রম করেছে ভারত। ১৫.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৫ রান করেন রোহিত। বাংলাদেশের পক্ষে দুই উইকেট নেন তরুণ লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশি বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চড়াও হন ভারতীয় ওপেনাররা।  মুস্তাফিজের করা প্রথম ওভারেই ১১ রান তুলে রোহিত-ধাওয়ান। পরের দুই ওভারে আল আমিন ও শফিউলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১১ রান করে ভারত। তিন ওভার শেষে ভারতের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ২২। 

এরপর আবারো বোলিংয়ে আসেন মুস্তাফিজ। ওই ওভারে দুই চার ও এক ছয়ে ১৫ রান তুলেন রোহিত। ৪ ওভার শেষে দলীয় স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৩৭।

মুস্তাফিজের পর আল আমিন ও শফিউলের ওপর চড়াও হন রোহিত-ধাওয়ান। ৬ ওভার শেষে বিনা উইকেটে ৬৩ রান তুলে ভারত।

এরপর বোলিংয়ে আসা তরুণ লেগ স্পিনার আমিনুলের ওভারে ১৩ রান করে ভারতীয়রা। পরের ওভারে আফিফ হোসেনকে ছয় মেরে স্বাগত জানান রোহিত। ওই ওভারেও ১৩ রান করে ভারত।

দশম ওভারে বোলিং করতে আসা মোসাদ্দেককে প্রথম তিন বলে তিন ছয় মারেন রোহিত। ১০ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ১১৩।

দলীয় ১১৮ রানের সময় প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ। আমিনুলের করা ১১তম ওভারের পঞ্চম বলে বোল্ড হন শিখর ধাওয়ান। ফেরার আগে ২৭ বলে ৩১ রান করেন ধাওয়ান।

এরপর ভারতীয় শিবিরে আবারো আঘাত হানেন আমিনুল। ১৩তম ওভারে মোহাম্মদ মিঠুনের (সাব) তালুবন্দি হন রোহিত শর্মা। ফেরার আগে ৪৩ বলে ৮৫ রান করেন ভারতীয় অধিনায়ক।

শেষদিকে কে এল রাহুল ও শ্রেয়াস আইয়ার কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। 

এর আগে বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) রাজকোটে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু করেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও মোহাম্মদ নাঈম। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম তিন বলে খলিলকে তিন চার মারেন মোহাম্মদ নাঈম। দুই ওভার শেষে বিনা উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০। 

পরের দুই ওভারে দীপক চাহার ও ওয়াশিংটন সুন্দরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ১১ রান করে বাংলাদেশ। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে খলিলের ওপর আবারো চড়াও হন নাঈম। ওই ওভারে দুই চারে ১০ রান করে বাংলাদেশি ওপেনাররা। 

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তৃতীয় বলে নাটকীয়তা দেখতে পায় দর্শকরা। উইকেটকিপার রিসাভ পান্তের ভুলে জীবন পান লিটন দাস। 

যুজবেন্দ্র চাহালের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে অনেকটা বেরিয়ে এসে তেড়েফুঁড়ে খেলতে গিয়েছিলেন লিটন। ব্যাট নাগাল পায়নি বলের। দারুণ ক্ষিপ্রতায় স্টাম্পিং করেন পান্ত। কিন্তু ড্রেসিং রুমের দিকে হাঁটতে থাকা লিটনকে ফেরান আম্পায়ার। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ধরার সময় পান্তের গ্লাভসের সামান্য অংশ ছিল স্টাম্পের সামনে। ফলে নো বল দেন টিভি আম্পায়ার।

কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি লিটন দাস। এর দুই ওভার পরেই রান আউট হন তিনি। ফেরার আগে ২১ বলে ২৯ রান করেন এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। লিটনের বিদায়ে ৭.২ ওভারে করা ৬০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে। 

এরপর নাঈমকে সঙ্গ দিতে উইকেটে আসেন সৌম্য সরকার। তবে এই জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দলীয় ৮৩ রানের মাথায় সুন্দরের বলে আইয়ারকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নাঈম। ফেরার আগে ৩১ বলে ৩৬ রান করেন এই তরুণ ওপেনার।

আগের ম্য্যাচের ফর্মকে এই ম্যাচে টেনে আনতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। ইনিংসের ১৩তম ওভারের প্রথম বলে চাহালকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ক্রুনাল পান্ডিয়ার তালুবন্দি হন মিস্টার ডিপেন্ডেবল।

চাহালের করা ওই ওভারের শেষ বলে গুগলিতে বিভ্রান্ত হয়ে স্টাম্পিং হন সৌম্য সরকার। ড্রেসিং রুমে ফেরার আগে ২০ বলে ৩০ রান করেন সৌম্য। ১৩ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০৪। 

এরপর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ও তরুণ অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দলীয় ১২৮ রানের সময় শর্মার ক্যাচে পরিণত হন আফিফ। 

মোসাদ্দেককে নিয়ে ফিনিশিংয়ের আভাস দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ১৯তম ওভারে দলীয় ১৪২ রানের সময় দুবের তালুবন্দি হন ক্রাইসিস ম্যান মাহমুদউল্লাহ। ফেরার আগে ২১ বলে ৩০ রান করেন মাহমুদউল্লাহ।

নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন নাঈম।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৩/৬ (লিটন ২৯, নাঈম ৩৬, সৌম্য ৩০, মুশফিক ৪, মাহমুদউল্লাহ ৩০, আফিফ ৬, মোসাদ্দেক ৭*, আমিনুল ৫*; চাহার ৪-০-২৫-১, খলিল ৪-০-৪৪-১, সুন্দর ৪-০-২৫-১, চেহেল ৪-০-২৮-২, দুবে ২-০-১২-০, ক্রুনাল ২-০-১৭-০)

ভারত: ১৫.৪ ওভারে ১৫৪/২ ( রোহিত ৮৫, ধাওয়ান ৩১, রাহুল ৮*, শ্রেয়াস ২৪*; মুস্তাফিজ ৩.৪-০-৩৫-০, শফিউল ২-০-২৩-০, আল আমিন ৪-০-৩২-০, আমিনুল ৪-০-২৯-২, আফিফ ১-০-১৩-০, মোসাদ্দেক ১-০-২১-০)।

বাংলাদেশ একাদশ: সৌম্য সরকার, লিটন দাস, নাঈম শেখ, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, আমিনুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, আল আমিন হোসেন। 

ভারত একাদশ: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শিখর ধাওয়ান, কেএল রাহুল, শ্রেয়াস আইয়ার, রিসাভ পান্ত, ক্রুনাল পান্ডিয়া, শিভাম দুবে, ওয়াশিংটন সুন্দর, যুবেন্দ্র চাহাল, দীপক চাহার, খলিল আহমেদ।

মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh