ফনেটিক ইউনিজয়
রূপবান খ্যাত বাংলা সিনেমার নায়িকা তাজেল
মাহমুদ জামান

১৯৬৫ সালে ‘রূপবান’ ছবিতে তাজেলের ভূমিকায় অভিনয় করে ‘তাজেল’ নামে গোটা দেশে পরিচিতি পেয়েছিলেন চন্দনা। অত্যন্ত সুন্দরী কিংবা রূপসী ছিলেন তিনি। নায়িকা হিসেবে নামধাম না করলেও প্রতিনায়িকা হিসেবে চন্দনার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তাজেল কন্যা চন্দনাকে দেখার জন্য দেশের সর্বত্রই দর্শকের ভিড় উপচে পড়তো। ‘রূপবান’ মুক্তির পর কোথাও গেলে দর্শকরা চন্দনাকে ঘিরে রাখতো। অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য হাজারো ছেলেমেয়ে অনুরোধ জানাতো। একবার তো নিউ মার্কেটে গেলে দর্শকরা তাকে ঘিরে ধরে। নিরূপায় হয়ে এক দোকানে তিনি আশ্রয়ও নিয়েছিলেন। বাইরে থেকে দর্শকরা একবাক্যে বলছিলেন, তাজেল কন্যাকে দেখতে চাই, দেখতে চাই। চন্দনা যখন তাজেলের ভূমিকায় অভিনয় করেন, তখন তার বয়স ১৪ কি ১৫ বছর।
অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার বেশ কয়েক বছর পর ১৯৯২ সালে চন্দনার সঙ্গে দেখা হয়। কোড়া রঙের লাল পাড়ের শাড়ি পরে চন্দনা সামনে এসে বসলেন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯২ সাল, ব্যবধান ২৭ বছর। তবু মনে হয়েছিল এই তো সেদিনের তাজেল কন্যা। রূপবান ছবির পরিচালক সালাহউদ্দিন ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যাপক। তিনি প্রায়ই চন্দনাদের বাসায় যেতেন। তার বাবা ছিলেন সালাহউদ্দিনের বন্ধু। রূপবান ছবি বানাতে গিয়ে তিনি ভেবেছিলেন, চন্দনাকে তাজেল চরিত্রে বেশ মানাবে। এ ধারণা থেকেই চন্দনাকে তিনি ‘রূপবান’ ছবিতে নিয়েছিলেন। চলচ্চিত্রে আসার আগে চন্দনার নাম ছিল ‘পিটি চৌধুরী’। পরিচালক সালাহউদ্দিনই চন্দনা নামটি দিয়েছিলেন।
একক নায়িকা হিসেবে চন্দনা দুটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। একটি ‘গুনাই’, অপরটি ‘মহুয়া’। দুটি ছবিই মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৬ সালে। এরপর ‘আবার বনবাসে রূপবান’ এবং ‘জরিনা সুন্দরী’ ছবিতে অভিনয় করে তার বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। ‘আবার বনবাসে রূপবান’ ছবিতেও ছিলেন তাজেল চরিত্রে। এই ছবির শুরুতে চন্দনার ঠোঁটে ছিল একটি গান ‘খাইয়ো না খাইয়ো না বন্ধু’। গানটি সে সময় দর্শকের মুখে মুখে ফিরত। ১৯৬৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘আবার বনবাসে রূপবান’। ‘মহুয়া’ ছবিতে চন্দনার নায়ক ছিলেন মাহমুদ আর ‘গুনাই’তে ছিলেন আখতার হোসেন। চন্দনা অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছবি হলো : কাঞ্চনমালা (১৯৬৭), সাইফুলমুলক বদিউজ্জামান (১৯৬৭), কাপুরুষ, ঘরজামাই, সঙ্গিনী, বিজয়িনী সোনাভান, সূর্যকন্যা, বুলবুল-এ-বাগদাদ, অনেক দিন আগে, শীষনাগ, দিওয়ানা, স্বামী প্রভৃতি। সাইফুলমুলক বদিউজ্জামান-এর উর্দু ভার্সন ‘মেরে আরমান মেরে স্বপ্নে’। এটিও ১৯৬৭ সালে মুক্তি পায়। ছবিতে চন্দনা ছিলেন মালেকা চরিত্রে। ঢাকার নায়িকাদের মধ্যে চন্দনাই প্রথম তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ করেন ‘রূপবান’ ছবিতে। তার বাবার চরিত্রে ছিলেন ইনাম আহমেদ। ছবিতে তার সঙ্গে তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন তিনি। আবার দেশ স্বাধীনের পরে ‘দাতা হাতেম তাই’ ছবিতে তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন জাভেদের সঙ্গে। চন্দনা অভিনীত শেষ ছবি ‘লালকাজল’। ছবিটি ১৯৮১ সালে মুক্তি পায়।
চন্দনা তার অভিনয়জীবনে লোকগাথা ছবিতে বেশি অভিনয় করেছেন। গুনাই, মহুয়া, তাজেল এসব চরিত্রে তার অভিনয়ের কথা চলচ্চিত্র ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এজন্যই চন্দনা কিংবদন্তী।

Disconnect