রাষ্ট্র জবাবদিহিতার মধ্যে আসতে চাইছে না: সুলতানা কামাল

মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর মিলনায়তনে  ‘উন্নয়ন, উচ্ছেদ, মানবাধিকার ও পরিবেশ বিপর্যয়’ শীর্ষক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সুশোভন অর্ক

মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর মিলনায়তনে ‘উন্নয়ন, উচ্ছেদ, মানবাধিকার ও পরিবেশ বিপর্যয়’ শীর্ষক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সুশোভন অর্ক

রাষ্ট্র জবাবদিহিতার মধ্যে আসতে চাইছে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল। 

রাজধানীর আগারগাঁয়ে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর মিলনায়তনে আজ শনিবার (৩০ নভেম্বর) ‘উন্নয়ন, উচ্ছেদ, মানবাধিকার ও পরিবেশ বিপর্যয়’ শীর্ষক গণশুনানি অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। 

বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কারণে পরিবেশ ও প্রতিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ ও ইতিবাচক উদ্যোগ নিতে গণশুনানির আয়োজন করা হয়। গণশুনানিতে বাদী হিসেবে ছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জনগণ এবং বিবাদী করা হয় বিভিন্ন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়কে। 

অনুষ্ঠানে সুলতানা কামাল বলেন, মাতারবাড়ি, গোবিন্দগঞ্জ এসব জায়গায় যে সরকারি প্রকল্প চলছে তা স্থানীয়দের জমি নিয়ে করা হচ্ছে। কিন্তু এক্ষেত্রে শুধুমাত্র জমির ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে। জীবনযাত্রার মান যে ব্যাহত হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে না। আমরা বিবাদী পক্ষ হিসেবে মন্ত্রণালয়ের সচিবদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম- তারা যেন এ বিষয়ে আজকে কথা বলেন। কিন্তু তারা আসেননি ও কিছু জানাননি। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, রাষ্ট্র জবাবদিহিতার মধ্যে আসতে চাইছে না।

কক্সবাজারের মহেশখালীল মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে স্থানীয় লোকজন মানবেতর জীবনযাপন করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের এই গণশুনানিতে মাতারবাড়ির স্থানীয় লোকজন যে সাক্ষ্য দিয়েছে তাতে বোঝা যায় সেখানকার লোকজন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা কী করবেন, তারা কীভাবে বাঁচবেন সেভাবে চিন্তা না করেই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, এসডিজি বলেছে- কোনো উন্নয়নই যেন পরিবেশ ও জনগণের ক্ষতি করে না হয়। কিন্তু আজ এই উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য স্থানীয় জনগণই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। 

সুলতানা কামাল বলেন, আমরা জানি এসব প্রকল্প এখন যে অবস্থায় আছে তা বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে যেকোনো প্রকল্প হাতে নেয়ার আগে যেন স্থানীয় লোকজনদের জীবন ও জীবিকার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। 

গণশুনানিতে বিচারক হিসেবে সুলতানা কামাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির ও অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। 


মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh