চট্টগ্রামে চিকিৎসক হত্যার মূলহোতা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় চিকিৎসক শাহ আলম হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা ডাকাত দলের প্রধান নজির আহমেদ সুমন প্রকাশ কালু (২৬) র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে বুধবার ভোরে সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নজির আহমেদ উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নতুন পাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ শাহ আলম হত্যার প্রধান আসামি।

ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ দুটি অস্ত্র ও ২৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, চিকিৎসক শাহ আলম হত্যার মূল আসামি নজির আহমেদ উত্তর বাঁশবাড়িয়া হাবিব রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ওই এলাকায় যায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে নজির আহমেদ দলবল নিয়ে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। গোলাগুলির একপর্যায়ে নজির আহমেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পরে নজির আহমেদকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নজির আহমেদের বুকে তিনটি ও পেটের বাঁ পাশে একটি গুলি লেগেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে কর্মস্থল সীতাকুণ্ড থেকে নগরের চান্দগাঁও এলাকার বাসায় ফিরতে একটি লেগুনায় উঠেন সৌদি আরবের মদিনা ফেরৎ ডা. শাহ আলম। ওই লেগুনায় আগে থেকেই দুজন ছিনতাইকারী ছিল। লেগুনাটি কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর আরো দুজন ছিনতাইকারী লেগুনায় উঠে। লেগুনা আরো কিছুদূর গেলে চার ছিনতাইকারী মিলে ডা. শাহ আলমকে যা আছে তা বের করে দিতে বলে। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে ছুরিকাঘাতে খুন করে ছিনতাইকারীরা।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ বলেন, খুনের পর মরদেহের পরিচয় যাতে শনাক্ত করা না যায় সেজন্য ডা. শাহ আলমের মুখ বিকৃত করে দেয় ছিনতাইকারীরা। পরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মরদেহটি ফেলে পালিয়ে যায় তারা।

তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই র‌্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়। তদন্ত করতে গিয়ে র‌্যাব জানতে পারে, লেগুনাতেই খুন হন ডা. শাহ আলম। পরে লেগুনাটির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে লেগুনা চালক ওমর ফারুককে (১৯) আটক করা হয়।

তিনি আরো বলেন, এ মামলায় নজির আহমেদকে মূল হোতা হিসেবে শনাক্ত করে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এই মামলায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার লেগুনা চালক ফারুক।

ডা. শাহ আলম দীর্ঘ ৩০ বছর সৌদি আরবের মদিনা হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছর ১৭ জানুয়ারি সীতাকুণ্ডে নিজ গ্রামে শিশুদের জন্য ‘চাইল্ড কেয়ার’ নামে একটি ক্লিনিক চালু করেন।


মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh