ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে লন্ডভন্ড সাতক্ষীরা উপকূল

ছবি: সাম্প্রতিক দেশকাল

ছবি: সাম্প্রতিক দেশকাল

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা। গতকাল শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়ে জেলার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলা কয়েকটি ইউনিয়নের ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

কাঁচা ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। রাস্তাঘাটে গাছপালা উপড়ে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মাছের ঘের ভেসে গেছে। এখনো উপকূলে চলছে বুলবুলের তাণ্ডব।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, ৮১ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানা ঝড়ের তাণ্ডবে সাতক্ষীরায় শনিবার রাত ৩টা থেকে ঝড়ো হাওয়াসহ প্রচণ্ড বর্ষণ হচ্ছে। নদীর পানি বেড়ে শ্যামনগরের সুন্দরবন লাগোয়া এলাকার রাস্তা-ঘাট প্লাবিত হয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বেশকিছু ঘরবাড়ি ভেঙেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে এসব এলাকায় উপড়ে পড়েছে গাছপালা।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, এখনো পর্যন্ত এক লাখ ৮৫ হাজার মানুষক আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। উদ্ধার কাজে নিয়োজিত আছেন পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী। উপকূলীয় এলাকা শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজলায় কাঁচাঘর বাড়ি, মৎস্যঘর ও ফসলি জমি ও রাস্তঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব অঞ্চল প্রায় ৬০/৭০ ভাগ ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। একইসঙ্গে তলিয়ে গেছে চিংড়ি ঘের।

শ্যামনগ‌র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, রাত ৩টা থেকে প্রচণ্ড ঝ‌ড়ো বাতাস অব্যাহত র‌য়েছে। উপকূলীয় দ্বীপ ইউনিয়ন, গাবুরা ও পদ্মপুকুরের ৮০ শতাংশ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া বৃ‌ষ্টির পা‌নি‌তে বি‌ভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃ‌ষ্টি হ‌য়ে‌ছে।

উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল বলেন, ঝড়ে সব কিছু লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ইউনিয়নে দুই হাজারেরও বেশি কাঁচামাটির ঘরবাড়ি ছিল। একটিও নেই। ধারণা করছি, মাটির নিচে অনেকে চাপা পড়ে গেছে। মাটির নিচে চাপা পড়া মানুষদের খোঁজা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম জানান, ঝড়ে তার ইউনিয়নের পাঁচ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সব মাছের ঘের ভেসে গেছে। বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। গাছপালা ভেঙে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

জেলায় শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৪৭ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঝড়ের কারণে রাস্তায় গাছপালা ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। সেগুলো সরানোর কাজ চলছে। এগুলো সরানো হলেই সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস কাজ শুরু করবে। এছাড়া মোবাইল নেটওয়ার্কও ঠিকমতো কাজ করছে না। 

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দেয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে (২৯ নম্বর) জানানো হয়, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh