ঠাকুরগাঁওয়ে এসএসসিতে অকৃতকার্য ছাত্রীর আত্মহত্যা

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় লিমা আক্তার (১৬) নামে এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে একই উপজেলার আরেক ছাত্রী বিউটি আক্তার (১৬) আত্মহত্যার চেষ্টা  করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।     

রবিবার (৩১ মে) আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিস্ট ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মোল্লা।

মৃত লিমা হরিপুর উপজেলার ৫ নম্বর হরিপুর সদর ইউনিয়নের তিনুয়া গ্রামে জহিরুল ইসলামের মেয়ে এবং হরিপুর দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন।

দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে হরিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে লিমা এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

লিমার বাবা জহিরুল ইসলাম বলেন, ধান কাটার জন্য রবিবার সকালে স্ত্রীসহ মাঠে যান তিনি। এরপর দুপুর ১টার দিকে বাড়ি থেকে খবর আসে তার মেয়ে লিমা গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলে আছে। এরপর লিমাকে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে  হরিপুরে এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় বিউটি আক্তার (১৬) নামে এক ছাত্রী কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করার ঘটনা ঘটেছে।

বিউটি আক্তার হরিপুর উপজেলার ৫ নম্বর হরিপুর সদর ইউনিয়নের বালিহাড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের মেয়ে এবং মশানগাঁও দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী।

বিউটির বাবা বেলাল হোসেন জানান, তার মেয়ে বিউটি আক্তার মশানগাঁও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। রবিবার বেলা ১১টার দিকে পরীক্ষায় ফেল করার বিষয়টি জানতে পারে বিউটি। এরপর সবার অগোচরে দুপুরের দিকে কীটনাশক পান করে। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। বিউটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে রেফার্ড করেন।

হরিপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক কবিরুল  বলেন, রবিবার দুপুর ১টার দিকে বিউটি আক্তার (১৬) নামে একজন কীটনাশক পান করা রোগী  ভর্তি করা হয়েছিল। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

হরিপুর থানার ওসি আমিরুজ্জামান ঘটনা দুইটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এখন পর্যন্ত এসব বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh