বরিশালে যাত্রীদের চাপে ভেস্তে গেলো স্বাস্থ্যবিধি

ছবি: সাম্প্রতিক দেশকাল

ছবি: সাম্প্রতিক দেশকাল

করোনার ভয়কে জয় করে বরিশাল ত্যাগ করছেন হাজার হাজার মানুষ। লঞ্চ চলাচল শুরুর প্রথম দিনেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে বরিশাল থেকে কয়েক হাজার মানুষ ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার আগেই তিনটি লঞ্চকে ঘাট ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে প্রশাসন।

এদিকে সীমিত পরিসরে লঞ্চ চলাচল শুরু করলেও প্রতিটি লঞ্চে সরকার নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি পূর্ণাঙ্গভাবে মানতে দেখা যায়নি। ঢাকাগামী একটি মাত্র লঞ্চে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র ব্যবহার করতে দেখা গেলেও বাকিগুলোতে করা হয়েছে শুধু স্প্রের ব্যবস্থা। তবে আভ্যন্তরীণ রুটের ছোট লঞ্চগুলোতে এর কোনো ব্যবস্থাই করা হয়নি। তাছাড়া শারীরিক দূরত্বও দেখা যায়নি ঢাকামুখী লঞ্চগুলোতে। এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আরো ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

জানা গেছে, টানা দুই মাস ৭ দিন পর সারা দেশের ন্যায় রবিবার ঢাকা-বরিশালসহ আভ্যন্তরীণ সব রুটে শুরু হয় যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল। সকাল ৬টা থেকে আভ্যন্তরীণ রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত বেশ কিছু ছোট লঞ্চ ছেড়ে যায় ভোলা, মেহেন্দিগঞ্জ, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালীসহ অন্যান্য রুটে। তবে সকাল থেকে ওইসব লঞ্চে যাত্রীদের চাপ কম ছিল।

তবে বিকেল ৪টার পর থেকেই বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। এমনকি সন্ধ্যা ৭টা না বাজতেই প্রতিটি লঞ্চের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলার ডেকে যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। ডেকে যায়গা না পাওয়া যাত্রীরা কোনোক্রমে ঢাকায় পৌঁছার লক্ষ্যে জায়গা করে নেন কেবিন ব্লকের বারান্দায়। এর ফলে লঞ্চগুলোতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

বরিশাল নদীবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ‘করোনাভাইরাসের প্রদুর্ভাবের কারণে সীমিত আকারে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বরিশাল নদীবন্দর থেকে সুন্দরবন, সুরভী এবং এ্যাডভেঞ্চারসহ তিনটি লঞ্চ প্রথম দিনে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। তিনটি লঞ্চের মধ্যে শুধুমাত্র সুন্দরবন-১১ লঞ্চে কিছুটা স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা গেছে। লঞ্চটির প্রবেশ গেটে জীবাণুনাশক টানেল বসানো হয়েছে। এছাড়া লঞ্চে প্রবেশ করা যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপতেও দেখা যায়। তবে অপর দুটি লঞ্চে শুধুমাত্র হাত জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রের ব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ডেক শ্রেণির অবস্থা আরো ভয়াবহ। শারীরিক দূরত্ব বাধ্যতামূলক বলা হলেও যাত্রীদের চাপে তা-ও উপেক্ষিত হচ্ছে। অধিকাংশ যাত্রীর মুখে ছিল না মাস্ক।

অপরদিকে সন্ধ্যা ৭টা বাজতেই নদীবন্দরে নোঙর করা তিনটি লঞ্চেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো হয়। পুলিশ এবং নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে তিনটি লঞ্চ নদীবন্দর ত্যাগ করতে বাধ্য করেন।

বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা (যুগ্ম পরিচালক) আজমল হুদা মিঠু সরকার সাম্প্রতিক দেশকালকে বলেন, ‘অনেক দিন লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ একটু বেশিই ছিল। এ কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনটি লঞ্চ বরিশাল নদীবন্দর ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এ কারণে অনেক যাত্রী ঢাকায় যাত্রা করতে পারেনি। এদের মধ্যে কিছু যাত্রী রাতে অপর একটি লঞ্চে তুলে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে লঞ্চ চলাচলের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীদের অসচেতনতার কারণে স্বাস্থ্যবিধি কিছুটা অমান্য হতে পারে। এ কারণে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতার সাথে যাত্রীদের লঞ্চে যাত্রা করার আহ্বান জানান বিআইডব্লিউটিএ’র এই কর্মকর্তা।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh