ফনেটিক ইউনিজয়
২০১৬ সালে রেমিট্যান্স কমেছে ১৭০ কোটি ১৩ লাখ ডলার
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাত্র শেষ হলো ২০১৬ সালের হিসাব-নিকাশ, নতুন বছর হিসেবে শুরু ২০১৭-এর। অর্থনীতির কাঁটাও এই বছর হিসাবে ভালো কিংবা খারাপ বার্তা বয়ে আনছে। আর সে হিসাবের মধ্যে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয় অন্যতম। ২০১৬ সালের পুরো সময়ে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ১ হাজার ৩৬১ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। রেমিট্যান্সের এই অঙ্ক এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় ১৭০ কোটি ১৩ লাখ ডলার বা ১১ দশমিক ১১ শতাংশ কম। ২০১৫ সালের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৫৩১ কোটি ২১ লাখ ডলার, যা ২০১৪ সালে আসা রেমিট্যান্স থেকে ৩৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার বা ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। এক যুগ পর ২০১৩ সালে এর আগে রেমিট্যান্স কম এসেছিল। সে বছর ৩৪ কোটি ডলার বা ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ রেমিট্যান্স কম এসেছিল। দেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নেওয়া প্রবাসী আয়ের তথ্যের আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থবছর ধরে রেমিট্যান্সের হিসাব করে। সেই হিসাব থেকে বার্ষিক এ তথ্য তুলে আনা হয়েছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ডলারের বিপরীতে অনেক দেশের মুদ্রা বিনিময় হার কমে যাওয়ার কারণে আগের মতো অর্থ পাঠাতে আগ্রহ পাচ্ছেন না প্রবাসীরা। তা ছাড়া বিশ্ববাজারে তেলের দর পড়ে যাওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রচ্যোর অনেক দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সুবিধাজনক অবস্থানে না থাকায় সেখানকার শ্রমিকদের কাজের সুযোগ ও আয় কমে গেছে। এর বাইরে হুন্ডি কারবারিরা কৌশলে দেশের জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে অবৈধ উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করে তা দেশে পাঠাচ্ছে। বিশেষ করে ছোট আকারের রেমিট্যান্স এ উপায়ে আহরণ করে এখানকার এজেন্টের যোগসাজশে তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সুবিধাভোগীর কাছে। এসব কারণেও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কমছে।
ব্যুরো অব ম্যান পাওয়ার অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং বা বিএমইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিদায়ী ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সাত লাখের বেশি জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৫৫ হাজার জনশক্তি রপ্তানি হয়। ২০১৪ সালে রপ্তানি হয় ৪ লাখ ২৫ হাজার এবং ২০১৩ সালে হয় ৪ লাখ ৯ হাজার। সেই হিসাবে ২০১৩ সালের পর আবারও জনশক্তি রপ্তানি বাড়লেও রেমিট্যান্সে তার প্রভাব এখনো পড়তে শুরু করেনি। তা ছাড়া আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোসহ বিশ্বের যে পাঁচটি দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে, সেই দেশগুলো থেকেও সম্প্রতি রেমিট্যান্স কম আসছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, রেমিট্যান্স আহরণের শীর্ষ দেশ সৌদি আরব থেকে গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স আসে ৯৬ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ১২৫ কোটি ডলার। পাঁচ মাসে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স কমেছে ২৯ কোটি ডলার, যা ২২দশমিক ৮৫ শতাংশ।
আলোচ্য পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে ৮৭ কোটি ৪১ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১১০ কোটি ডলার। একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছে ২৩ কোটি ডলার, যা ২১ শতাংশ। রেমিট্যান্স প্রেরণে তৃতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৮ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশটির প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১০৫ কোটি ডলার। এ হিসাবে ৫ মাসে দেশটি থেকে ৩৭ কোটি ডলার বা ৩৫ শতাংশ রেমিট্যান্স কম এসেছে। চতুর্থ দেশ মালয়েশিয়া থেকে আলোচ্য ৫ মাসে ৫১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৫৪ কোটি ডলার। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা কুয়েত থেকে এসেছে ৪২ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৪১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে এই পাঁচ দেশ থেকে এসেছে ৩৪৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৯১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার বা ২১ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরের এই সময়ে এসব দেশ থেকে ৪৩৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেড়েছে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা। বিশ্বব্যাপী বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিদেশে অবস্থানে সমস্যা বাড়ছে। তবে এ ক্ষেত্রেও ওমান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশিদের অভিবাসনপ্রক্রিয়া রোল মডেল হতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকেরা।

Disconnect