ফনেটিক ইউনিজয়
নারী নির্যাতন আইনের সংশোধন প্রয়োজন

দেশে ৭২টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রয়েছে এবং তাতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দেড় লাখের বেশি। এসব মামলার অধিকাংশ ‘ভিন্ন উদ্দেশ্যে’ করা মিথ্যা মামলা বলে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের অনুমান। ফলে স্বচ্ছন্দে এসব মামলার বিচারকাজ এগোচ্ছে না। বাড়ছে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা। এই মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে প্রচারমাধ্যমে। এরূপ পটভূমিতে মাননীয় বিচারকেরা বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের সংশোধন প্রস্তাব করেছেন।
এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া হলো, এনজিও এবং বিভিন্ন পরিসরের অ্যাক্টিভিস্টদের চাপে নারী নির্যাতন আইন অবাস্তবভাবে এত বেশি কঠোর করা হয়েছে যে তা স্বাভাবিক বিচারকাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উল্লিখিত ট্রাইব্যুনালে ৮০ শতাংশ মামলাই যৌতুক-সংক্রান্ত। এরূপ মামলার মাত্র ৫ শতাংশ যৌতুক ও নির্যাতন-সংক্রান্ত। নারী অধিকার আন্দোলনকর্মীদের চাপে যৌতুকের জন্য আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ঘটনায় যৌতুক হিসেবে সামান্য কিছু অর্থ লেনদেন হলেও অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না। এরূপ সংখ্যাগরিষ্ঠ মামলাই মূলত পারিবারিক অশান্তির কারণে অন্য কোনো প্রতিকারের ব্যবস্থা না থাকায় হয়েছে। আবার নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও অনেক সময় সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে স্বামী-স্ত্রী সন্তানের জন্য আপস করতে চাইলেও বিদ্যমান আইনে তার কোনো অবকাশ রাখা হয়নি।
একইভাবে, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জমিজমা বা অর্থ লেনদেন-সংক্রান্ত বা অন্য কোনো সামাজিক বিরোধে করা হচ্ছে ‘ধর্ষণচেষ্টা’ ও ‘যৌন হয়রানি’র অনেক মামলা। মূলত প্রতিপক্ষকে কারাগারে পাঠানোর লক্ষ্যে এসব মামলা করা হচ্ছে।
আবার কোনো মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে বাদীর বিরুদ্ধে পুনরায় মামলা করা হলে তাতেও আদালতে মামলার পাহাড় জমছে। সামগ্রিকভাবে বিচার বিভাগে কাজের চাপ বাড়লেও তাতে কেবল আইনজীবীরাই উপকৃত হচ্ছেন।
এ অবস্থায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ও এর বিচারপ্রক্রিয়ার ব্যাপকভিত্তিক পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।

Disconnect