ফনেটিক ইউনিজয়
কিশোর অপরাধ এখন এড়িয়ে যাওয়ার বিষয় নয়

সাম্প্রতিক সময়ের একটি সামাজিক ও জাতীয় উদ্বেগের বিষয় হলো কিশোর অপরাধ। চুরি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধকে পেছনে ফেলে কিশোরেরা এখন জড়িয়ে পড়েছে খুন-ধর্ষণের মতো ভয়ংকর সব অপরাধে। পাল্টেছে অপরাধের শ্রেণি চরিত্রও। আগে কেবল নিম্নবিত্তের কিশোরেরাই সাধারণত অপরাধে জড়িত ছিল। কিন্তু এখন মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সীরাও নানা অপরাধে জড়াচ্ছে। ১ জুলাই আবারও কিশোর গ্যাং বিরোধে সজল হোসেন নামের এক কিশোর খুন হওয়ার পর এ নিয়ে নতুন করে ভাবার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের শুরু দিকে ৬ জানুয়ারি,  রাজধানীর উত্তরায় কিশোরদের দুই দলের বিরোধে খুন হয় নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান। এ ঘটনার ১২ দিনের মাথায় তেজকুনীপাড়ায় ‘বড়, ছোট’ দ্বন্দ্বের জেরে আবদুল আজিজ, ১৫ জানুয়ারি রূপনগরে কামাল হোসেন, ২ মার্চ শেওড়াপাড়া এলাকায় কিশোর সজীব মিয়া, ২০ মে যাত্রাবাড়ীতে জাহিদুল হাওলাদার নামে একটি ফ্যান কারখানার কর্মী কিশোর হত্যার শিকার হয়েছে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে কিশোরদের হাতে কিশোর খুনের এতগুলো ঘটনা আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে, এই অপরাধকে আর এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।
এ সমস্যা সমাধানে সমাজে আইনের শাসন কার্যকর করতে হবে। বড়রা নানা অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার দৃষ্টান্ত ছোটদেরও এই ধরনের অপরাধে উৎসাহী করে। সেই সঙ্গে পারিবারিক পরিবেশ যেন বন্ধুত্বপূর্ণ ও আনন্দময় হয়, সামাজিক পরিবেশ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এসবের মাধ্যমেই আশা করা যায়, আমাদের কিশোরেরা তাদের সঠিক পথ খুঁজে পাবে।

Disconnect