ফনেটিক ইউনিজয়
কোরবানির পশু নিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধ হোক

কোরবানি ঈদ সামনে রেখে বরাবরের মতোই বেপরোয়া হয়ে পড়েছে চাঁদাবাজেরা। রাজধানীতে পশুবাহী ট্রাকের সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চাঁদাবাজিও। বিভিন্ন মহাসড়কে, পথেঘাটে এমনকি গরুর হাটগুলোতেও চাঁদাবাজেরা বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি করছে। ভারতীয় গরু আনতে সীমান্তের ওপারে বিএসএফকে মোটা অঙ্কের ‘পাসিং খরচ’ থেকেই শুরু। এরপর বাংলাদেশ সীমান্তে সরকার-নির্ধারিত রাজস্বের অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। এরপর গরুর ট্রাক রাজধানীতে নিয়ে আসতে পথে পথে বিভিন্ন স্পটে ২৫০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। পরিবহনশ্রমিক, ক্ষমতাসীন দল, কোথাও বা পুলিশের নামে তোলা হচ্ছে টাকা। এ ছাড়া সীমান্তের ঘাটগুলোতেও বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি চলছে। বিশেষ করে হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ব্যাপারীরা। পথে পথে চাঁদাবাজির কারণে কোরবানির পশুর দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজি রোধের জন্য সাদাপোশাকে পুলিশি টহলের কথা বললেও কার্যত কোনো কাজে আসছে না। কারণ এই পুলিশ সদস্যরাও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঁদা আদায়ের কারণে একেকটি গরুতে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ পড়ে যাচ্ছে। এ টাকা শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের কাছ থেকেই আদায় করা হবে সন্দেহ নেই।
তাই কোরবানির পশুর গাড়ি যাতে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ সদস্যদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিতে হবে। চাঁদাবাজদের ধরতে সাদাপোশাকের পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে টহল দিতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা দরকার।

Disconnect